১৩/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১০ - প্রকৃত ধন হলো মনের ধন
সম্পদের আধিক্যের কারণে ধনী বলে বিবেচিত নয়
প্রকৃত ধন মনের ঐশ্বর্য
সহীহ মুসলিম : ২৩১০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩১০
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য।
ই. ফা. ২২৮৮, ই. ফা. ২২৮৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রকৃত ধন-সম্পদের মানদণ্ড খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। সাধারণত মানুষ মনে করে, অনেক টাকা-পয়সা, জিনিসপত্র ও দুনিয়ার সাজ-সরঞ্জাম থাকলেই মানুষ ধনী। কিন্তু হাদিস বলছে, প্রকৃত ঐশ্বর্য শুধু সম্পদের আধিক্যে নয়। আসল ধন হলো মনের ঐশ্বর্য। অর্থাৎ যে মানুষ অন্তরে তৃপ্ত, আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতে শান্ত থাকে এবং অকারণ লোভে নিজেকে হারিয়ে ফেলে না—তার ভেতরেই প্রকৃত ধন আছে। এই শিক্ষা দুনিয়ার সম্পদকে অস্বীকার করে না, বরং সম্পদের সঙ্গে মনকে সঠিক জায়গায় রাখতে শেখায়। বেশি পাওয়া সত্ত্বেও যদি মন অশান্ত থাকে, তবে মানুষ প্রকৃত অর্থে ধনী নয়। আর কম থাকলেও যদি অন্তরে তৃপ্তি থাকে, সেটিই বড় নিয়ামত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত ধন শুধু সম্পদের পরিমাণ দিয়ে মাপা যায় না।
- মনের তৃপ্তি মানুষের জীবনে বড় নিয়ামত।
- দুনিয়ার জিনিস বেশি থাকলেও অন্তর অশান্ত হতে পারে।
- আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা মনের ঐশ্বর্যের অংশ।
