১৩/৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩০৯ - কুরআন পাঠ ও অন্তরের সতর্কতা
আদাম সন্তানের যদিও সম্পদের দু’টি উপত্যকা থাকে তবু সে তৃতীয়টি অনুসন্ধান করবে
কুরআন পাঠ ও অন্তর কঠিন হওয়ার ভয়
সহীহ মুসলিম : ২৩০৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩০৯
حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي، الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ إِلَى قُرَّاءِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ ثَلاَثُمِائَةِ رَجُلٍ قَدْ قَرَءُوا الْقُرْآنَ فَقَالَ أَنْتُمْ خِيَارُ أَهْلِ الْبَصْرَةِ وَقُرَّاؤُهُمْ فَاتْلُوهُ وَلاَ يَطُولَنَّ عَلَيْكُمُ الأَمَدُ فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ كَمَا قَسَتْ قُلُوبُ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ وَإِنَّا كُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا فِي الطُّولِ وَالشِّدَّةِ بِبَرَاءَةَ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي قَدْ حَفِظْتُ مِنْهَا لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ . وَكُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا بِإِحْدَى الْمُسَبِّحَاتِ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْهَا ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ﴿ فَتُكْتَبُ شَهَادَةً فِي أَعْنَاقِكُمْ فَتُسْأَلُونَ عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
আবূল আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ মুসা আল আশ’আরী (রাঃ) একবার বাসরার ক্বারীদের (আলিমদের) ডেকে পাঠালেন। অতঃপর সেখানকার তিনশ’ ক্বারী তাঁর কাছে আসলেন এবং কোরআন পাঠ করলেন। তিনি (তাদের উদ্দেশে) বললেন, আপনারা বাসরার মধ্যে উত্তম লোক এবং সেখানকার ক্বারী। সুতরাং আপনারা অনবরত কোরআন পাঠ করতে থাকুন। অলসতায় দীর্ঘ সময় যেন কেটে না যায়। তাহলে আপনাদের অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে যেমন আপনাদের পূর্ববর্তী একদল লোকের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল।আমরা একটি সূরা পাঠ করতাম যা দীর্ঘ এবং কঠোর ভীতি প্রদর্শনের দিক থেকে সূরা বারাআতের সমতুল্য। পরে তা আমি ভুলে গেছি। তবে তার এতটুকু মনে রেখেছি – ““যদি কোন আদম সন্তান দুই উপত্যকা সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় আরও একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না।” আমি আরও একটি সূরা পাঠ করতাম যা মুসাব্বিহাত (গুণগানপূর্ণ) সূরাগুলো সমতুল্য।তাও আমি ভুলে গেছি, শুধু তা থেকে এ আয়াতটি মনে আছে – ““হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা করো না” - (সূরা সফ ৬১ : ২)।আর যে কথা তোমরা শুধু মুখে আওড়াও অথচ করো না তা তোমরা তোমাদের ঘাড়ে সাক্ষী হিসাবে লিখে রাখা হয়। কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ই. ফা. ২২৮৭, ই. সে. ২২৮৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবু মূসা আল আশ‘আরী (রাঃ) বসরার ক্বারীদের ডাকলেন এবং তাদের কুরআন পাঠে নিয়মিত থাকতে বললেন। তিনি তাদের উত্তম মানুষ ও কুরআন পাঠকারী হিসেবে সম্মান দিলেন, কিন্তু সাথে সতর্ক করলেন—অলসতায় দীর্ঘ সময় কেটে গেলে অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে। এটি কুরআন পাঠের গুরুত্বকে পরিষ্কার করে। বর্ণনায় আরও এসেছে, আগে একটি দীর্ঘ ও ভয় প্রদর্শনকারী সূরা পাঠ করা হতো, যার কিছু অংশ তিনি মনে রেখেছিলেন। সেখানে আদম সন্তানের সম্পদের লোভের কথা ছিল। আরেকটি সূরার অংশে বলা হয়েছে, মানুষ যেন এমন কথা না বলে যা সে করে না। শুধু মুখে বলা কথা, কিন্তু কাজে না থাকা—এ বিষয়েও কেয়ামতের দিন প্রশ্ন করা হবে বলে সতর্কতা এসেছে। তাই এই হাদিস কুরআন তিলাওয়াত, অন্তরের যত্ন, সম্পদের লোভ এবং কথা-কাজের মিল—সব বিষয়কে একসাথে স্মরণ করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন পাঠে নিয়মিত থাকা অন্তরকে জীবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
- দীর্ঘ অবহেলা অন্তর কঠিন হওয়ার কারণ হতে পারে।
- সম্পদের লোভ মানুষকে আরও চাইতে শেখায়।
- কথা ও কাজের মিল রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
