১৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৬ - আনসারদের ধৈর্য ও হাওজের প্রতিশ্রুতি
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
আনসারদের ধৈর্য, মর্যাদা ও হাওজের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৩৩৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৩৬
حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمَّا فَتَحَ حُنَيْنًا قَسَمَ الْغَنَائِمَ فَأَعْطَى الْمُؤَلَّفَةَ قُلُوبُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ الأَنْصَارَ يُحِبُّونَ أَنْ يُصِيبُوا مَا أَصَابَ النَّاسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَخَطَبَهُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلاَّلاً فَهَدَاكُمُ اللَّهُ بِي وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللَّهُ بِي وَمُتَفَرِّقِينَ فَجَمَعَكُمُ اللَّهُ بِي " .وَيَقُولُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَلاَ تُجِيبُونِي " . فَقَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ شِئْتُمْ أَنْ تَقُولُوا كَذَا وَكَذَا وَكَانَ مِنَ الأَمْرِ كَذَا وَكَذَا " . لأَشْيَاءَ عَدَّدَهَا . زَعَمَ عَمْرٌو أَنْ لاَ يَحْفَظُهَا فَقَالَ " أَلاَ تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاءِ وَالإِبِلِ وَتَذْهَبُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى رِحَالِكُمُ الأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ وَلَوْلاَ الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ وَشِعْبَهُمْ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ " .
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের মাল ‘মুয়াল্লাফাতুল কুলূব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ্ দান করলেন।খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?” তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তাঁরা বলতেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অত্যন্ত আমানাতদার।অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথা জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তাঁরা বললেন, অত্যন্ত আমানাতদার। (অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। ‘আম্র (রাঃ) বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি।অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আর যদি লোকেরা কোন উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে।
ই.ফা. ২৩১৪, ই.সে. ২৩১৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনায়নের পর গনীমাত বণ্টন এবং আনসারদের অনুভূতির কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুআল্লাফাতুল কুলুবদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করেন। আনসাররা যখন অন্যদের মতো অংশ চাওয়ার কথা ভাবেন, তখন তিনি তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন। তিনি তাঁদের আগের অবস্থা স্মরণ করান—পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত, দারিদ্র্য থেকে স্বচ্ছলতা এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে ঐক্য। আনসাররা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি অনুগ্রহকারী। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, অন্যরা ছাগল ও উট নিয়ে যাক, আর আনসাররা রাসূলুল্লাহকে নিয়ে ফিরুক—এতে কি তাঁরা সন্তুষ্ট নন? তিনি আনসারদের নিজের খুব কাছের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে বঞ্চনার মুখে ধৈর্য ধরতে বলেন, যতক্ষণ না তাঁরা হাওজে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দেওয়া হিদায়াত, স্বচ্ছলতা ও ঐক্য বড় নেয়ামত।
- দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গ বড় মর্যাদা।
- বঞ্চনার মুখে ধৈর্য ধরার শিক্ষা এই হাদিসে এসেছে।
- আনসারদের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
