১৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৭ - বণ্টন নিয়ে অভিযোগ ও ধৈর্য
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
গনীমাত বণ্টন নিয়ে অভিযোগ ও নবীজির ধৈর্য
সহীহ মুসলিম : ২৩৩৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৩৭
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَاسًا فِي الْقِسْمَةِ فَأَعْطَى الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عُيَيْنَةَ مِثْلَ ذَلِكَ وَأَعْطَى أُنَاسًا مِنْ أَشْرَافِ الْعَرَبِ وَآثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيهَا وَمَا أُرِيدَ فِيهَا وَجْهُ اللَّهِ .قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ - قَالَ - فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ كَالصِّرْفِ ثُمَّ قَالَ " فَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ يَعْدِلِ اللَّهُ وَرَسُولُهُ». قَالَ ثُمَّ قَالَ " يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ». قَالَ قُلْتُ لاَ جَرَمَ لاَ أَرْفَعُ إِلَيْهِ بَعْدَهَا حَدِيثًا .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন হুনায়ুনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমাতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আক্বরা’ ইবনু হাবিসকে একশ’ উট দিলেন, ‘উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন।এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বন্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছাব। রাবী বলেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাঁকে শুনালাম। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল।তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা মূসা (আঃ)-কে রহমাত করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনও এ ধরনের কোন ব্যাপার তাঁকে জানাব না। (কেননা এতে তাঁর কষ্ট হয়)।
ই.ফা. ২৩১৫, ই.সে. ২৩১৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনায়নের দিনে গনীমাত বণ্টনের একটি সংবেদনশীল ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কিছু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে বেশি দেন; আকরা ইবন হাবিস ও উয়াইনাহকে একশ উট করে দেন। তখন একজন ব্যক্তি কঠিন ভাষায় বলে যে, এই বণ্টনে নাকি ইনসাফ হয়নি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। এ কথা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তাঁর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি ইনসাফ না করেন, তবে কে ইনসাফ করবে? এরপর তিনি মূসা (আঃ)-এর কথা স্মরণ করেন—তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন। এই হাদিস অপবাদ, অশোভন মন্তব্য এবং নেতৃত্বের প্রতি অবিবেচক আচরণ থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বণ্টনকে অন্যায় বলা খুব গুরুতর কথা।
- কঠিন অপবাদ শুনেও নবী (صلى الله عليه وسلم) ধৈর্যের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
- মূসা (আঃ)-এর ধৈর্য নবী (صلى الله عليه وسلم) স্মরণ করেছেন।
- অন্যের সিদ্ধান্ত বুঝে না নিয়ে কঠোর মন্তব্য করা থেকে বাঁচা উচিত।
