১৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৮ - অপবাদে নবীজির কষ্ট ও ধৈর্য
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
অন্যায় অভিযোগে নবীজির কষ্ট ও ধৈর্যের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৩৩৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৩৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَسْمًا فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّهَا لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَسَارَرْتُهُ فَغَضِبَ مِنْ ذَلِكَ غَضَبًا شَدِيدًا وَاحْمَرَّ وَجْهُهُ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي لَمْ أَذْكُرْهُ لَهُ - قَالَ - ثُمَّ قَالَ " قَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ».
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমাতের কিছু মাল বন্টন করলেন। এক ব্যক্তি বলল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে এ কথা তাঁকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাঁকে আর কখনও বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা (আঃ)-কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।
ই.ফা. ২৩১৬, ই.সে. ২৩১৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর গনীমাত বণ্টন নিয়ে এক ব্যক্তির কটু মন্তব্যের কথা এসেছে। সে বলেছিল, এই বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিক লক্ষ্য করা হয়নি। বর্ণনাকারী নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে গোপনে এই কথা জানালে তিনি খুব রাগান্বিত হন এবং তাঁর মুখ লাল হয়ে যায়। বর্ণনাকারী পরে মনে করেন, কথাটি না জানালেই ভালো হতো। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, মূসা (আঃ)-কে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন। এই হাদিস আমাদের শেখায়, আল্লাহর রাসূলের ব্যাপারে অভিযোগ করা কত গুরুতর বিষয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, নবীরা মানুষের কষ্টদায়ক কথার মুখেও ধৈর্য ধরেছেন। তাই কথাবার্তায় সতর্কতা, বিশেষ করে দ্বীনের নেতৃত্ব ও আমানতদার মানুষের ব্যাপারে, খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও আমানতদারির ব্যাপারে অভিযোগ করার আগে সতর্ক হওয়া দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কষ্ট পেলেও ধৈর্যের পথ দেখিয়েছেন।
- মূসা (আঃ)-এর ধৈর্য এখানে উদাহরণ হিসেবে এসেছে।
- কথা কখনো মানুষের হৃদয়ে কষ্ট দিতে পারে, তাই ভাষা সংযত হওয়া উচিত।
