১৩/৪৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৯ - বাহ্যিক কুরআন পাঠ ও অন্তরের বিপদ
খারিজী সম্প্রদায় ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা
কুরআন পাঠ কণ্ঠে আটকে গেলে অন্তরের বিপদ
সহীহ মুসলিম : ২৩৩৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৩৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي، الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بِالْجِعْرَانَةِ مُنْصَرَفَهُ مِنْ حُنَيْنٍ وَفِي ثَوْبِ بِلاَلٍ فِضَّةٌ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقْبِضُ مِنْهَا يُعْطِي النَّاسَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اعْدِلْ . قَالَ «وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ لَقَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ». فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْتُلَ هَذَا الْمُنَافِقَ . فَقَالَ «مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ يَتَحَدَّثَ النَّاسُ أَنِّي أَقْتُلُ أَصْحَابِي إِنَّ هَذَا وَأَصْحَابَهُ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْهُ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনায়নের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জি’রানাহ্ নামক স্থানে অবস্থান করেছিলেন। বিলাল (রাঃ)-এর কাপড়ে কিছু রৌপ্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুঠি ভরে তা লোকদেরকে দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল- “হে মুহাম্মাদ! ইনসাফ কর।” তিনি বললেন, হতভাগা, আমিই যদি ইনসাফ না করি তাহলে কে ইনসাফ করবে? আর আমি যদি সুবিচার না করি তাহলে তুমি তো হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।এ কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এ মুনাফিক্বটাকে হত্যা করি। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি। তাহলে লোক বলবে, আমি আমার সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করি। আর এ ব্যক্তি ও তার সাথীরা কোরআন পাঠ করবে- কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না (অর্থাৎ অন্তরে কোন প্রকার আবেদন সৃষ্টি করবে না)। তারা কোরআন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
ই.ফা. ২৩১৭, ই.সে. ২৩১৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনায়ন থেকে ফেরার পর জি‘ইরানাহতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বণ্টনের ঘটনা এসেছে। বিলাল (রাঃ)-এর কাপড়ে থাকা রৌপ্য থেকে তিনি লোকদের দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল, “হে মুহাম্মাদ! ইনসাফ কর।” নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি যদি ইনসাফ না করেন, তবে আর কে ইনসাফ করবে? উমর (রাঃ) তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা অনুমতি দেননি। এরপর তিনি বলেন, এই ব্যক্তি ও তার সাথীরা কুরআন পড়বে, কিন্তু সেই পাঠ কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না; তারা কুরআন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। হাদিসটি বাহ্যিক কুরআন পাঠ, অন্তরের শূন্যতা এবং অন্যায় অভিযোগের বিপদ সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু মুখে কুরআন পড়া যথেষ্ট নয়; অন্তরে তার প্রভাব থাকা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইনসাফ নিয়ে অভিযোগ করা গুরুতর অপরাধ।
- কঠিন পরিস্থিতিতেও নবী (صلى الله عليه وسلم) তাৎক্ষণিক শাস্তির অনুমতি দেননি।
- দ্বীনের নামে বাহ্যিকতা থাকলেও অন্তরের ভুল পথ বড় বিপদ হতে পারে।
