১৩/৫০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৬৭ - সাদাকার ব্যাপারে নবীর সতর্কতা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর বংশ পরিবারের জন্য সদাক্বাহ্ যাকাত খাওয়া হারাম, এরা হচ্ছে বনূ হাশিম ও বানী মুত্ত্বালিব; এরা ছাড়া অন্য কারো জন্য যাকাত-সদাক্বাহ্ খাওয়া হারাম নয়
সাদাকার খেজুর নিয়ে নবীর সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ২৩৬৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৬৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ، مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " وَاللَّهِ إِنِّي لأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي - أَوْ فِي بَيْتِي - فَأَرْفَعُهَا لآكُلَهَا ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً - أَوْ مِنَ الصَّدَقَةِ - فَأُلْقِيهَا».
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেন। তার মধ্যে একটি হাদীস নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমি ঘরে ফিরে আমার বিছানায় অথবা (তিনি বলেছেন) আমার ঘরের মধ্যে খেজুর পড়ে থাকতে পাই। আমি তা খাওয়ার জন্য হাতে তুলে নেই। পরক্ষণেই আমার সন্দেহ হয়, এটা সদাক্বার খেজুর হতে পারে। তাই আমি তা ফেলে দেই।”
ই. ফা. ২৩৪৫,ই. সে. ২৩৪৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদাকা বিষয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর গভীর সতর্কতা দেখা যায়। তিনি ঘরে বা বিছানায় একটি খেজুর পেয়ে তা খাওয়ার জন্য হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর মনে সন্দেহ হলো, এটি হয়তো সাদাকার খেজুর হতে পারে। তাই তিনি তা খাওয়া থেকে বিরত থাকলেন এবং ফেলে দিলেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কোনো জিনিস হালাল কি না—এ বিষয়ে সন্দেহ হলে সাবধান থাকা উত্তম। বিশেষ করে সাদাকা ও যাকাতের সম্পদ নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم নিজের জন্য কঠোর সতর্কতা দেখিয়েছেন। এখানে সাদাকার বিধান, হালাল-হারাম সতর্কতা এবং তাকওয়ার সুন্দর শিক্ষা একসাথে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্দেহযুক্ত খাবার বা সম্পদ থেকে বেঁচে থাকা তাকওয়ার পরিচয়।
- সাদাকার সম্পদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব সতর্ক ছিলেন।
- সামান্য একটি খেজুরের ক্ষেত্রেও হালাল-হারামের গুরুত্ব আছে।
- নিজের প্রয়োজন থাকলেও শরীয়তের সীমা মানা জরুরি।
