১৪/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪১৮ - ভিন্ন স্থানের চাঁদ দেখা
নিজ নিজ শহরে চন্দ্রোদয়ের হিসাব অনুযায়ী কাজ করতে হবে, এক শহরের চন্দ্রোদয়ের হুকুম উল্লেখযোগ্য দূরত্বে অবস্থিত অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখা ও সিয়ামের সিদ্ধান্ত
সহীহ মুসলিম : ২৪১৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪১৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ - عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ .فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . وَشَكَّ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى فِي نَكْتَفِي أَوْ تَكْتَفِي .
কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারিসের কন্যা উম্মুল ফায্ল তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌঁছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমজান এসে গেল। আমি জুমু’আর রাতে রমজানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মাদীনায় ফিরে এলাম।‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমু’আর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সিয়াম পালন করেছে। এমনকি মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-ও সিয়াম পালন করেছে।তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোজা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফতার করব। আমি বললাম, আপনি কি মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও সিয়াম পালন করাকে (রমজান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বলেন : না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা ও ইফতার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন।
ই.ফা. ২৩৯৫, ই.সে. ২৩৯৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরাইব (রাঃ)-এর সিরিয়া ও মদীনার চাঁদ দেখার ঘটনা এসেছে। তিনি সিরিয়ায় জুমার রাতে রমজানের চাঁদ দেখেন এবং সেখানে মানুষ সিয়াম রাখে। পরে মদীনায় ফিরে ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বিষয়টি জানান। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা মদীনায় শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছেন, তাই তারা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবেন অথবা এর আগে চাঁদ দেখলে ইফতার করবেন। কুরাইব জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন। এই হাদিস চাঁদ দেখা, স্থানীয় সিদ্ধান্ত এবং সিয়াম শুরু-শেষের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নির্দিষ্ট স্থানের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করার দিকটি সাহাবির আমলে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চাঁদ দেখা সিয়াম শুরু ও শেষ করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
- ভিন্ন স্থানের চাঁদ দেখার বিষয় সাহাবিদের আলোচনায় এসেছে।
- ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে অনুসরণ করেছেন।
- চাঁদ না দেখা গেলে মাস পূর্ণ করার নিয়ম এখানে স্পষ্ট।
