১৪/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫০৭ - সফরে সাওমে সহনশীলতার শিক্ষা
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম
সফরে সাওম: দোষারোপ নয়, সহজতা
সহীহ মুসলিম : ২৫০৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৫০৭
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي رَمَضَانَ فَمَا يُعَابُ عَلَى الصَّائِمِ صَوْمُهُ وَلاَ عَلَى الْمُفْطِرِ إِفْطَارُهُ.
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রমজান মাসে সফর করতাম কিন্তু সাওম পালনকারীকে তার সাওমের কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সাওম ভঙ্গকারীকেও তার সাওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না।
ই. ফা. ২৪৮৪, ই.সে. ২৪৮৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজান মাসে সফরের অবস্থায় সাওম নিয়ে সাহাবীদের সুন্দর আচরণ দেখা যায়। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে রমজানে সফর করতেন। তখন কেউ সাওম পালন করতেন, আবার কেউ সাওম ভঙ্গ করতেন। কিন্তু সাওম পালনকারীকে তার সাওমের কারণে দোষ দেওয়া হতো না, আর সাওম ভঙ্গকারীকেও তার ইফতারের কারণে দোষ দেওয়া হতো না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সফরে সাওমের বিষয়ে সহনশীলতা ও সহজতা। যার অবস্থা যেমন, সে তেমন আমল করত। কেউ নিজের শক্তি অনুযায়ী সাওম রাখলে তাকে ছোট করা হয়নি। আবার কেউ সফরের কষ্টে সাওম না রাখলেও তাকে নিন্দা করা হয়নি। তাই রমজানে সফরে সাওম নিয়ে অযথা কঠোরতা, তর্ক বা দোষারোপ করা এই হাদিসের ভাবের সাথে মেলে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে সাওম রাখা ও না রাখা—দুই অবস্থাতেই সাহাবীরা পরস্পরকে দোষ দিতেন না।
- ইবাদতের বিষয়ে অন্যের অবস্থা বুঝে কথা বলা উচিত।
- রমজানে সফরের ক্ষেত্রে সহজতা ও সহনশীলতা নববী আমলের অংশ।
