১৫/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬৭৫ - ইতিকাফের তাঁবু ও কাজা
ই‘তিকাফে ইচ্ছুক ব্যক্তি কখন ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করবে
ইতিকাফের তাঁবু, নিয়ত ও কাজার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৬৭৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৬৭৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ مُعْتَكَفَهُ وَإِنَّهُ أَمَرَ بِخِبَائِهِ فَضُرِبَ أَرَادَ الاِعْتِكَافَ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَأَمَرَتْ زَيْنَبُ بِخِبَائِهَا فَضُرِبَ وَأَمَرَ غَيْرُهَا مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ بِخِبَائِهِ فَضُرِبَ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْفَجْرَ نَظَرَ فَإِذَا الأَخْبِيَةُ فَقَالَ " آلْبِرَّ تُرِدْنَ " . فَأَمَرَ بِخِبَائِهِ فَقُوِّضَ وَتَرَكَ الاِعْتِكَافَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ حَتَّى اعْتَكَفَ فِي الْعَشْرِ الأَوَّلِ مِنْ شَوَّالٍ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলে ফাজরের সালাত আদায়ের পর ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। একবার তিনি (মাসজিদের অভ্যন্তরে) তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং তদানুযায়ী তা খাটানো হ‘ল। তিনি রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার সংকল্প করলেন। উম্মুল মু‘মিনীন যায়নাব (রাঃ)-ও তাঁর তাঁবু খাটিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তা খাটানো হ‘ল।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অপরাপর স্ত্রীগণও নিজ নিজ তাঁবুগুলো খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং তা খাটানো হ‘ল। ফাজরের সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকিয়ে তাঁবুগুলো খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তা তুলে ফেলা হল। তিনি রমাযানের ই‘তিকাফ ভঙ্গ করলেন এবং শাওওয়াল মাসের প্রথম দশকে কাযা করলেন।
ই.ফা. ২৬৫২, ই.সে. ২৬৫১
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইতিকাফ সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইতিকাফ করতে চাইলে ফজরের সালাত শেষে ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। একবার রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের জন্য তাঁর তাঁবু খাটানো হয়। পরে যায়নাব (রাঃ) এবং অন্য স্ত্রীগণও তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দেন। ফজরের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁবুগুলো দেখে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কি নেকির উদ্দেশ্য করছেন? এরপর তাঁবুগুলো খুলে ফেলতে বলেন। তিনি সেই রমজানের ইতিকাফ ছেড়ে দেন এবং শাওয়ালের প্রথম দশকে তা কাজা করেন। এই বর্ণনায় ইতিকাফের আদব, পরিবেশের সরলতা এবং কাজা করার বিষয় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ইতিকাফের স্থানে ফজরের সালাতের পর প্রবেশ করতেন।
- ইতিকাফে বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে উদ্দেশ্য ও আদব গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) একবার রমজানের ইতিকাফ ছেড়ে শাওয়ালে কাজা করেছেন।
- ইবাদতের পরিবেশে প্রতিযোগিতা বা প্রদর্শনের আশঙ্কা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
