১৬/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৭০৫ - মুশরিকদের তালবিয়ায় শিরকের কথা
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময়
তালবিয়ায় তাওহীদ ও শিরক থেকে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ২৭০৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৭০৫
وَحَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ كَانَ الْمُشْرِكُونَ يَقُولُونَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ - قَالَ - فَيَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «وَيْلَكُمْ قَدْ قَدْ». فَيَقُولُونَ إِلاَّ شَرِيكًا هُوَ لَكَ تَمْلِكُهُ وَمَا مَلَكَ . يَقُولُونَ هَذَا وَهُمْ يَطُوفُونَ بِالْبَيْتِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুশরিকরা বলত, “লাব্বায়কা লা- শারীকা লাকা”। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, তোমাদের ক্ষতি হোক, ক্ষান্ত হও, ক্ষান্ত হও (সামনে আর বলো না)। তারা এর সাথে আরও বলত, “কিন্তু হে আল্লাহ! তোমার আরও একজন শারীক আছে-তুমিই যার মালিক এবং সে কিছুরই মালিক নয়।” তারা এ কথা বলত আর বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করত।
ই.ফা. ২৬৮২, ই.সে. ২৬৮১
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৭০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুশরিকদের তালবিয়ার একটি রূপ বর্ণিত হয়েছে। তারা প্রথমে বলত, “লাব্বায়কা লা শরীকা লাকা”—অর্থাৎ তোমার কোনো শরীক নেই। কিন্তু এরপর তারা আবার বলত, “তবে তোমার একজন শরীক আছে, যার মালিক তুমিই এবং সে কিছুর মালিক নয়।” রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের প্রথম কথার পরই বলতেন, ক্ষান্ত হও, সামনে আর বলো না। তারা এসব কথা বলত এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করত। এই হাদিস তালবিয়ার মূল শিক্ষা বোঝায়—আল্লাহর একত্ব স্বীকার করতে হবে, আর ইবাদতে শিরকের কোনো স্থান নেই। তাওহীদ পরিষ্কার রাখা হজ্জের যিকরের বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালবিয়ায় আল্লাহর একত্বের ঘোষণা থাকা উচিত।
- মুশরিকরা তাওহীদের কথার সঙ্গে শিরক মিশিয়ে ফেলত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের ভুল বাক্যের আগে থামতে বলতেন।
- বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময়ও বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা জরুরি।
