১৬/১৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮২৭ - হজ্জে হায়য ও উমরার বিধান

ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

হজ্জে হায়য হলে করণীয় ও উমরার বিধান

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮২৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، جَمِيعًا عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ أَقْبَلْنَا مُهِلِّينَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِحَجٍّ مُفْرَدٍ وَأَقْبَلَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - بِعُمْرَةٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِسَرِفَ عَرَكَتْ حَتَّى إِذَا قَدِمْنَا طُفْنَا بِالْكَعْبَةِ وَالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يَحِلَّ مِنَّا مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ - قَالَ - فَقُلْنَا حِلُّ مَاذَا قَالَ " الْحِلُّ كُلُّهُ " . فَوَاقَعْنَا النِّسَاءَ وَتَطَيَّبْنَا بِالطِّيبِ وَلَبِسْنَا ثِيَابَنَا وَلَيْسَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ أَرْبَعُ لَيَالٍ ثُمَّ أَهْلَلْنَا يَوْمَ التَّرْوِيَةِ ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَوَجَدَهَا تَبْكِي فَقَالَ «مَا شَانُكِ» . قَالَتْ شَانِي أَنِّي قَدْ حِضْتُ وَقَدْ حَلَّ النَّاسُ وَلَمْ أَحْلِلْ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَالنَّاسُ يَذْهَبُونَ إِلَى الْحَجِّ الآنَ . فَقَالَ " إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ أَهِلِّي بِالْحَجِّ " . فَفَعَلَتْ وَوَقَفَتِ الْمَوَاقِفَ حَتَّى إِذَا طَهَرَتْ طَافَتْ بِالْكَعْبَةِ وَالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ قَالَ " قَدْ حَلَلْتِ مِنْ حَجِّكِ وَعُمْرَتِكِ جَمِيعًا " . فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ فِي نَفْسِي أَنِّي لَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ حَتَّى حَجَجْتُ . قَالَ " فَاذْهَبْ بِهَا يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ " . وَذَلِكَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (মাক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর মাসিক ঋতু শুরু হ’ল। অবশেষে আমরা মাক্কায় পৌঁছে কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা‘ঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, “সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।” অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন ‘আরাফাহ্ দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল।অতঃপর তারবিয়াহ্ দিবসে (৮ই যিলহজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম। এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহ্‌রও ত্বওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হজ্জের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তা’আলা আদাম (আঃ)-এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন।অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এখন তোমার হজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়টিই পূর্ণ হ’ল। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার অবস্থা এই যে, হজ্জ না করা পর্যন্ত আমি (‘উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করতে পারিনি, কিন্তু হজ্জ আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে ‘আবদুর রহমান! তাঁকে নিয়ে চলে যাও এবং তান‘ঈম থেকে তাঁকে ‘উমরাহ্ করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা।

ই.ফা. ২৮০৪, ই.সে. ২৮০২

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮২৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হজ্জ ও উমরার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজভাবে এসেছে। সাহাবীরা ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় আসেন। যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল না, রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের তাওয়াফ ও সাঈ করার পর সম্পূর্ণভাবে ইহরামমুক্ত হতে বলেন। তারা সাধারণ পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যান। অন্যদিকে আয়িশা রাঃ উমরার ইহরামে ছিলেন, কিন্তু হায়য শুরু হওয়ায় তিনি তাওয়াফ করতে পারেননি। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এটি আদম সন্তানের নারীদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়। তিনি গোসল করে হজ্জের ইহরাম বাঁধেন, হজ্জের কাজ করেন, পরে পবিত্র হয়ে তাওয়াফ ও সাঈ করেন। এরপর তাঁর হজ্জ ও উমরা পূর্ণ হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হায়য নারীদের স্বাভাবিক বিষয়; এতে অকারণ দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
  • হজ্জ ও উমরার আমল নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে করতে হয়।
  • যার সাথে কুরবানির পশু নেই, তার ইহরামমুক্তির বিধান এই বর্ণনায় স্পষ্ট হয়েছে।
  • সমস্যায় পড়লে সঠিক জ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞেস করা নিরাপদ পথ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন