১৬/৬৯. অধ্যায়ঃ

কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণ

সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১৩৬

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ لَمَّا احْتَرَقَ الْبَيْتُ زَمَنَ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ حِينَ غَزَاهَا أَهْلُ الشَّامِ فَكَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ تَرَكَهُ ابْنُ الزُّبَيْرِ حَتَّى قَدِمَ النَّاسُ الْمَوْسِمَ يُرِيدُ أَنْ يُجَرِّئَهُمْ - أَوْ يُحَرِّبَهُمْ - عَلَى أَهْلِ الشَّامِ فَلَمَّا صَدَرَ النَّاسُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَشِيرُوا عَلَىَّ فِي الْكَعْبَةِ أَنْقُضُهَا ثُمَّ أَبْنِي بِنَاءَهَا أَوْ أُصْلِحُ مَا وَهَى مِنْهَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنِّي قَدْ فُرِقَ لِي رَأْىٌ فِيهَا أَرَى أَنْ تُصْلِحَ مَا وَهَى مِنْهَا وَتَدَعَ بَيْتًا أَسْلَمَ النَّاسُ عَلَيْهِ وَأَحْجَارًا أَسْلَمَ النَّاسُ عَلَيْهَا وَبُعِثَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ لَوْ كَانَ أَحَدُكُمُ احْتَرَقَ بَيْتُهُ مَا رَضِيَ حَتَّى يُجِدَّهُ فَكَيْفَ بَيْتُ رَبِّكُمْ إِنِّي مُسْتَخِيرٌ رَبِّي ثَلاَثًا ثُمَّ عَازِمٌ عَلَى أَمْرِي فَلَمَّا مَضَى الثَّلاَثُ أَجْمَعَ رَأْيَهُ عَلَى أَنْ يَنْقُضَهَا فَتَحَامَاهُ النَّاسُ أَنْ يَنْزِلَ بِأَوَّلِ النَّاسِ يَصْعَدُ فِيهِ أَمْرٌ مِنَ السَّمَاءِ حَتَّى صَعِدَهُ رَجُلٌ فَأَلْقَى مِنْهُ حِجَارَةً فَلَمَّا لَمْ يَرَهُ النَّاسُ أَصَابَهُ شَىْءٌ تَتَابَعُوا فَنَقَضُوهُ حَتَّى بَلَغُوا بِهِ الأَرْضَ فَجَعَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ أَعْمِدَةً فَسَتَّرَ عَلَيْهَا السُّتُورَ حَتَّى ارْتَفَعَ بِنَاؤُهُ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ إِنِّي سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لَوْلاَ أَنَّ النَّاسَ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِكُفْرٍ وَلَيْسَ عِنْدِي مِنَ النَّفَقَةِ مَا يُقَوِّي عَلَى بِنَائِهِ لَكُنْتُ أَدْخَلْتُ فِيهِ مِنَ الْحِجْرِ خَمْسَ أَذْرُعٍ وَلَجَعَلْتُ لَهَا بَابًا يَدْخُلُ النَّاسُ مِنْهُ وَبَابًا يَخْرُجُونَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَنَا الْيَوْمَ أَجِدُ مَا أُنْفِقُ وَلَسْتُ أَخَافُ النَّاسَ - قَالَ - فَزَادَ فِيهِ خَمْسَ أَذْرُعٍ مِنَ الْحِجْرِ حَتَّى أَبْدَى أُسًّا نَظَرَ النَّاسُ إِلَيْهِ فَبَنَى عَلَيْهِ الْبِنَاءَ وَكَانَ طُولُ الْكَعْبَةِ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ ذِرَاعًا فَلَمَّا زَادَ فِيهِ اسْتَقْصَرَهُ فَزَادَ فِي طُولِهِ عَشَرَ أَذْرُعٍ وَجَعَلَ لَهُ بَابَيْنِ أَحَدُهُمَا يُدْخَلُ مِنْهُ وَالآخَرُ يُخْرَجُ مِنْهُ ‏.‏ فَلَمَّا قُتِلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ كَتَبَ الْحَجَّاجُ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ يُخْبِرُهُ بِذَلِكَ وَيُخْبِرُهُ أَنَّ ابْنَ الزُّبَيْرِ قَدْ وَضَعَ الْبِنَاءَ عَلَى أُسٍّ نَظَرَ إِلَيْهِ الْعُدُولُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ ‏.‏ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ الْمَلِكِ إِنَّا لَسْنَا مِنْ تَلْطِيخِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فِي شَىْءٍ أَمَّا مَا زَادَ فِي طُولِهِ فَأَقِرَّهُ وَأَمَّا مَا زَادَ فِيهِ مِنَ الْحِجْرِ فَرُدَّهُ إِلَى بِنَائِهِ وَسُدَّ الْبَابَ الَّذِي فَتَحَهُ ‏.‏ فَنَقَضَهُ وَأَعَادَهُ إِلَى بِنَائِهِ ‏.

‘আত্বা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়াযীদ ইবন মুয়াবিয়ার সময় কা’বাহ ঘর দগ্ধীভূত হয়েছিল- যখন সিরীয় বাহিনী মক্কায় যুদ্ধে লিপ্ত ছিল (৬৩ হিজরি) এবং কা’বার যা হবার তাই হল। হজ্জের মৌসুমে লোকদের আগমনের সময় আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ) কা’বা এ অবস্থায় রেখে দিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল লোকদেরকে উদ্দীপ্ত করা অথবা তাদের মধ্যে সিরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনোবল সৃষ্টি করা।লোকেরা সমবেত হলে তিনি বললেন, “হে জনগণ! আমাকে কা’বা ঘর সম্পর্কে পরামর্শ দিন। আমি কি তা ভেঙ্গে ফেলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলব, নাকি শুধু এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব?”ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “আমার মনে একটি মতের উদয় হয়েছে, আমি মনে করি যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তুমি মেরামত করবে এবং লোকদের ইসলাম গ্রহণ ও নবী (ﷺ)-এর নবুওয়াত লাভকালীন সময়ে কা’বা ঘর ও পাথরসমূহ যে অবস্থায় ছিল, তা সে অবস্থায় রেখে দিবে।”ইবন যুবাইর (রাঃ) বললেন, “আপনাদের কারো ঘর অগ্নিদগ্ধ হলে তা সংস্কার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন না। অতএব আপনাদের প্রতিপালকের ঘর কী করে এরূপ জীর্ণ অবস্থায় রাখা যেতে পারে? আমি আমার রবের কাছে তিনদিন ইস্তিখারা করব (অভিপ্রায় অবগত হবার জন্য) অতঃপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”তিনদিন পর তিনি কা’বা ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। লোকেরা আশঙ্কা করল যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কা’বার ছাদে উঠবে, সে হয়ত কোন আসমানী গজবে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি (ছাদ ভাঙ্গার জন্য) কা’বার ছাদে উঠল এবং তার একটি পাথর নিচে ফেলল। লোকেরা যখন দেখল সে কোন বিপদে পড়েনি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল এবং কা’বা ঘর ভেঙ্গে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিল। অতঃপর ইবন যুবাইর (রাঃ) কতগুলো থাম স্থাপন করে এগুলোর সাথে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। অবশেষে কা’বার দেয়ালের গাঁথুনি উচ্চ হল।ইবন যুবাইর (রাঃ) বললেন, “অবশ্যই আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ “লোকেরা যদি নিকট অতীতে কুফরি ত্যাগ না করত এবং আমার নিকটও কা’বা পুনর্নির্মাণ করার মত অর্থ-সামর্থ্যও নেই- তাহলে আমি অবশ্যই হাজর (হাতিম)-এর পাঁচ গজ স্থান কা’বা ঘরের অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং লোকদের প্রবেশের জন্য ও বের হবার জন্য এর দুইটি দরজা বানাতাম।”ইবন যুবাইর (রাঃ) বলেন, “বর্তমানে আমার হাতে তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে এবং লোকদের তরফ থেকেও কোন প্রতিবাদের আশঙ্কা নেই।”রাবী বলেন, এরপর তিনি হাতিমের পাঁচ গজ এলাকা কা’বা অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে তা (পুরাতন) ভিত্তির উপর গড়ে উঠল [যার উপর ইব্রাহিম (আঃ) তা গড়েছিলেন]। এবং লোকেরা তা অবলোকন করল। এ ভিত্তির উপর দেয়াল গড়ে তোলা হল। কা’বার দৈর্ঘ্য ছিল আঠারো গজ। তা যখন (প্রস্থে) বাড়ানো হল, তখন (স্বাভাবিকভাবেই দৈর্ঘ্য) তা ছোট হওয়ায় দৈর্ঘ্যে তা আরও দশ গজ বৃদ্ধি করা হল এবং এর দুইটি দরজা নির্মাণ করা হল, একটি প্রবেশের জন্য এবং অপরটি প্রস্থানের জন্য।ইবন যুবাইর (রাঃ) শহীদ হলে হাজ্জাজ (ইবন ইউসুফ) আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানকে তা লিখে জানাল। সে আরও জানাল যে, ইবন যুবাইর (কা’বা ঘর) সে ভিত্তির উপর নির্মাণ করেছে [যা ছিল ইব্রাহিম (আঃ)-এর ভিত্তি] এবং মক্কার বিশ্বস্ত লোকেরা তা যাচাই করে দেখেছে।আবদুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন যে, “কোন বিষয়ে ইবন যুবাইরকে অভিযুক্ত করার প্রয়োজন আমাদের নেই। সে দৈর্ঘ্যে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা বহাল রাখ এবং হাতিমের দিকে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা ভেঙ্গে পূর্বাবস্থায় নিয়ে আসো। আর সে যে (নতুন) দরজা খুলেছে তা বন্ধ করে দাও।” এরপর হাজ্জাজ তা ভেঙ্গে পূর্বের ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩১১১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩১০৮[৩২] ইয়াযীদ ইবনু মু’আবিয়ার রাজত্বকালে (৬১-৬৩ হি/-৬৮০-৮৩ খ্রি) ইসলামের ইতিহাসে তিনটি জঘন্যতম ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। (১) ৬১ হিজরীর মুহার্রম মাসে কারবালা প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসায়ন (রাঃ) উমাইয়্যাহ্ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহীদ হন । এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ গোটা মুসলিম জাহানে, বিশেষত মাক্কাহ্ ও মাদীনায় পবিত্র নগরীদ্বয়ে গণঅসন্তোষ দেখা দেয় এবং তা বিদ্রোহের রূপ নেয় । তা দমনের জন্য উমাইয়াহ্ সেনাপতি মুসলিম ইবনু ‘উক্ববার নেতৃত্বে সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রেরণ করা হয়। (২) ৬৮৩ খ্রীস্টাব্দের ২৬ আগষ্ট হার্রা নামক স্থানে এ বাহিনীর সাথে মাদীনাবাসীদের ভীষণ যুদ্ধ হয় এবং মাদীনাবাসীগণ পরাজিত হয় । এ যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বহু মুহাজির ও আনসার সহাবী শাহীদ হন এবং বিজয়োল্লাসে উন্মত্ত সিরীয় বাহিনী তিন দিন ধরে মাদীনার পবিত্র নগরী লুন্ঠন করে। অতঃপর তারা মাক্কাহ্ অভিমুখে রওনা হয় । এখানে আবূ বাক্র সিদ্দীক্ব (রাঃ)-এর দৌহিত্র ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) ইতোমধ্যে নিজেকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করেন । পথিমধ্যে সেনাপতি মুসলিমের মৃত্যু হলে হুসায়ন ইবনু নুমায়র সিরীয় বাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করে । (৩) তারা ৬৮৩ খ্রীস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মাক্কাহ্ নগরী অবরোধ করে এবং পাহাড়ের উপর থেকে পাথর নিক্ষেপক যন্ত্রের সাহায্যে আল্লাহর ঘর কা’বার উপর পাথর বর্ষণ করে অগ্নি সংযোগ করে এবং মারাত্নক ক্ষতি সাধন করে । তারা হাজারে আসওয়াদ ভেঙ্গে তিন টুকরা করে ফেলে । এ বছরের নভেম্বর মাসে ইয়াযীদের মৃত্যু হলে সিরীয় বাহিনী অবরোধ তুলে দামেশ্কে প্রত্যাবর্তন করে । অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) ইব্রাহীম (‘আঃ)-এর ভিত-এর উপর কা’বাহ্ ঘর পুনর্নির্মাণ করেন । ৬৯২ খ্রীস্টাব্দে ‘আরাফাহ্ যুদ্ধে হাজ্জাজ বাহিনীর হাতে ইবনু যুবায়র (রাঃ) শাহীদ হলে উমাইয়্যাহ রাজ ‘আবদুল মালিক পুনরায় কা’বাহ্ ঘর সংস্কারের নির্দেশ দেন । হাদীসে সে ঘটনাটি উল্লেখিত হয়েছে ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন