১/৭৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৪ - ঈসা (আঃ) ও দাজ্জাল
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা (‘আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা।
কাবার কাছে ঈসা (আঃ) ও দাজ্জাল দেখার হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৩১৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " أَرَانِي لَيْلَةً عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَرَأَيْتُ رَجُلاً آدَمَ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنَ اللِّمَمِ قَدْ رَجَّلَهَا فَهِيَ تَقْطُرُ مَاءً مُتَّكِئًا عَلَى رَجُلَيْنِ - أَوْ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ - يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ . ثُمَّ إِذَا أَنَا بِرَجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ أَعْوَرِ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, একরাতে (স্বপ্নে) আমি কা’বা শরীফের কাছে আমাকে দেখতে পেলাম। গোধুম (গম) বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের যত লোক তোমরা দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল তাঁর। তিনি এ চুল আচড়িয়ে রেখেছেন আর তা থেকে পানি ঝরছিল। দু’জনের উপর বা বর্ণনাকারী বলেন, দু’জনের কাধের উপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হলো ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)। [৭৪] তারপর দেখি আরেক ব্যক্তি, অধিক কোকড়ানো চুল, ডান চক্ষুটি টেরা যেন একটি আঙুর ফুলে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হলো, মাসীহুদ দাজ্জাল।
[৭৪] ‘ঈসা (আঃ) কে এজন্য মাসীহ বলা হয় যে, যখন তিনি কোন অসুস্থ ব্যক্তির উপর হাত ফিরাতেন তখন সে ভাল হয়ে যেত এবং কেউ কেউ বলেন যে, তাঁর পায়ের তলা বরাবর ছিল, গভীর ছিলনা। এজন্য মাসীহ বলা হয়েছে আরো অনেকেই বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং দাজ্জালকেও মাসীহ বলা হয়েছে। এজন্য যে, তাঁর চক্ষু বসা হবে ও ডান চক্ষু কানা হবে। আবার কেউ বলেছেন, শেষ যুগে যখন সে বের হবে তখন সারা দুনিয়া বিচরণ করবে। যার জন্য তাকে মাসীহ বলা হয়েছে। (সংক্ষিপ্ত নাবাবী)[৭৫] ইবনু ‘উমার (রাঃ) এর বর্ণিত এ হাদীস থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, ‘ঈসা (আঃ)-এর তাওয়াফের ঘটনা ‘নাবী (ﷺ) এর স্বপ্নযোগে ছিল। কেননা, এ হাদীসে দাজ্জালের তাওয়াফ করার বর্ণনাও এসেছে। যদিও সহীহ হাদীস হতে প্রমাণ আছে যে, দাজ্জাল মাক্কাহ ও মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবেনা। কাযী ইয়ায (রহঃ) বলেন যে, সম্ভবত এর ব্যাখ্যা এ হতে পারে যে, দাজ্জালের মাক্কাহ ও মাদীনায় প্রবেশ করতে না দেয়া ওই যুগের সাথে খাস যখন সে ফাসাদে লিপ্ত হবে।ই.ফা. ৩২২; ই.সে. ৩৩৩ [৭৫]
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক রাতের স্বপ্নের কথা বলেন। তিনি নিজেকে কাবা শরীফের কাছে দেখতে পান। সেখানে গম বর্ণের এক সুন্দর ব্যক্তিকে দেখেন, যার চুল ঘাড় পর্যন্ত ছিল এবং চুল থেকে পানি ঝরছিল। তিনি দুই ব্যক্তির ওপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, তিনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। এরপর আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যার চুল খুব কোঁকড়ানো, ডান চোখ টেরা এবং চোখটি ফোলা আঙুরের মতো। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, সে মাসীহুদ দাজ্জাল। এই হাদিস ঈসা (আঃ)-এর মর্যাদা এবং দাজ্জালের চিহ্ন সম্পর্কে সতর্ক তথ্য দেয়। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে হাদিসের বর্ণনাতেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্বপ্নে কাবার কাছে ঈসা (আঃ)-কে তাওয়াফ করতে দেখেছেন।
- ঈসা (আঃ)-এর চুল, বর্ণ ও অবস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এসেছে।
- দাজ্জালের ডান চোখের বিশেষ চিহ্ন এই হাদিসে উল্লেখ আছে।
- দাজ্জাল বিষয়ে সহীহ বর্ণনা জানা সতর্কতার অংশ।
