১৭/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩৫৬ - শিগার বিবাহের নিষেধ
শিগার বিবাহ হারাম ও তা বাতিল
শিগার বিবাহ কী এবং কেন নিষিদ্ধ
সহীহ মুসলিম : ৩৩৫৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৩৫৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الشِّغَارِ . وَالشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ ابْنَتَهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার পদ্ধতির বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন। শিগার হল- কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে অপর ব্যক্তির নিকট এ শর্তে বিবাহ দেয়া যে, শেষোক্ত ব্যক্তি তার কন্যাকে প্রথমোক্ত ব্যক্তির নিকট বিবাহ দিবে এবং তাদের মধ্যে মাহর দেয়া হবে না।
ই.ফা. ৩৩৩০, ই.সে. ৩৩২৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শিগার পদ্ধতির বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন। হাদিসেই শিগারের ব্যাখ্যা এসেছে—এক ব্যক্তি তার কন্যাকে অন্য ব্যক্তির কাছে এই শর্তে বিবাহ দেয় যে, অন্য ব্যক্তিও তার কন্যাকে প্রথম ব্যক্তির কাছে বিবাহ দেবে, আর তাদের মধ্যে কোনো মাহর থাকবে না। তাই এখানে মূল বিষয় হলো “শিগার বিবাহ”, “মাহর ছাড়া বিনিময় বিবাহ” এবং “বিবাহের ন্যায়নীতি”। হাদিসটি নারীর সম্মান ও বিবাহের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। কন্যাকে শুধু বিনিময়ের জিনিসের মতো ব্যবহার করা এই পদ্ধতির সমস্যা হিসেবে বোঝা যায়। তবে ব্যাখ্যায় হাদিসের বাইরে গিয়ে বড় ফিকহি আলোচনা না করাই ভালো। সরাসরি পাঠ অনুযায়ী, নবী صلى الله عليه وسلم এই বিশেষ পদ্ধতির বিবাহ থেকে নিষেধ করেছেন, যেখানে দুই পক্ষের কন্যা বিনিময়ের শর্ত থাকে এবং মাহর দেওয়া হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিগার পদ্ধতির বিবাহ থেকে নবী صلى الله عليه وسلم নিষেধ করেছেন।
- বিবাহে কন্যাকে বিনিময়ের বস্তু হিসেবে ধরা উচিত নয়।
- হাদিসে মাহর না থাকার বিষয়টি শিগারের ব্যাখ্যায় এসেছে।
- বিবাহের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সম্মান রক্ষা করা দরকার।
