১৯/১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৪৫ - এক তালাক, রাজআত ও ইদ্দত

সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বলাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বলাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে

এক তালাকের পর রাজআত ও সঠিক সময়ের বিধান

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৪৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، - عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ وَهْىَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ عِنْدَهُ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا حِينَ تَطْهُرُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُجَامِعَهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ .وَزَادَ ابْنُ رُمْحٍ فِي رِوَايَتِهِ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ قَالَ لأَحَدِهِمْ أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَ امْرَأَتَكَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَمَرَنِي بِهَذَا وَإِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ وَعَصَيْتَ اللَّهَ فِيمَا أَمَرَكَ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ. قَالَ مُسْلِمٌ جَوَّدَ اللَّيْثُ فِي قَوْلِهِ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً.

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর এক স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় এক তালাক দিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে হুকুম দিলেন যেন সে স্ত্রীকে রাজ’আত করে নেয়। অতঃপর পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃ আর একটি হায়য হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে। এরপর তার (এ পরবর্তী) হায়য হতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। তখন যদি তাকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা হয় তবে পবিত্র হবার সময় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক প্রদানের আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন।........ ইবনু রুম্‌হ (রহঃ) তার রিওয়ায়াতে অধিক বলেছেন- এবং এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে ‘‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাদের (প্রশ্নকর্তাদের) যে কাউকে বলতেন : দেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে (যতক্ষণ) একবার কিংবা দু’বার তালাক দিলে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ (রাজ’আত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে দিলে তবে সে (স্ত্রী) তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে- যতক্ষণ না তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে সে বিয়ে করে। আর তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে বিধান দিয়েছিলেন তাতে তুমি তাঁর প্রতি অবাধ্যতা দেখালে।

ই.ফা. ৩৫১৭, ই.সে. ৩৫১৬ ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেনঃ রাবী লায়স (রহঃ) (কুতায়বাহ্‌ প্রমুখের শায়খ) তার ‘একটি তালাক’ কথাটি স্পষ্ট করে দিয়ে উত্তম কাজ করেছেন।

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবন উমর রা.-এর হায়েয অবস্থায় এক তালাক দেওয়ার ঘটনা বিস্তারিতভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে নির্দেশ দেন, স্ত্রীকে রাজআত করে নিতে। এরপর স্ত্রী পবিত্র হবে, আবার একটি হায়েয হবে, এরপর সেই হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তখন যদি তালাক দিতে চায়, তবে পবিত্র অবস্থায় সহবাসের আগে তালাক দেবে। হাদিসে বলা হয়েছে, এটাই সেই ইদ্দত, যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, এক বা দুই তালাকের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য ছিল। আর তিন তালাক দিলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিয়ে করে। এই হাদিস তালাকের সঠিক নিয়ম, রাজআত, ইদ্দত এবং তিন তালাকের গুরুতর দিক বুঝতে সাহায্য করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হায়েয অবস্থায় দেওয়া তালাকের পর রাজআতের নির্দেশ এসেছে।
  • তালাক দিতে হলে পবিত্র অবস্থায় সহবাসের আগে সময় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
  • এক বা দুই তালাকের ক্ষেত্রে ফিরে আসার সুযোগ থাকে।
  • তিন তালাকের বিষয়ে বর্ণনায় গুরুতর সতর্কতা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন