১৯/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮৯ - তিন তালাকের পর খোরপোষ ও ইদ্দত
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই
তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর খোরপোষ ও ইদ্দতের বিধান
সহীহ মুসলিম : ৩৫৮৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৮৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ، طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلُهُ بِشَعِيرٍ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَىْءٍ. فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ " . فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ " تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي " . قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلاَ يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتَقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ " . فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ " انْكِحِي أُسَامَةَ " . فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ.
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ ‘আম্র ইবনু হাফস্ (রাঃ) (তার স্বামী) অনুপস্থিতিতে তাকে বায়িন ত্বলাক্ব দেন। এরপর সামান্য যবসহ উকীল কে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে তিনি [ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)] তাঁর উপর ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট হন। সে (উকীল) বলল, আল্লাহ্র কসম! তোমাকে (খোরপোষরূপে) কোন কিছু দেয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। তখন তিনি [ফাত্বিমাহ্ বিনত ক্বায়স (রাঃ)] রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট সব খুলে বললেন। (তার কথা শুনে) তিনি বলেন, তোমার জন্য তার [তোমার স্বামী আবূ ‘আম্র ইবনু হাফস্ (রাঃ)-এর] দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই।এরপর তিনি তাকে উম্মু শারীক-এর ঘরে গিয়ে ‘ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি এও বললেন, সে মহিলা (উম্মু শারীক) এমন একজন স্ত্রীলোক যার কাছে আমার সাহাবীগণ ভিড় করে থাকেন। তুমি বরং ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ)-এর বাড়িতে গিয়ে ‘ইদ্দাত পালন করতে থাক। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে প্রয়োজনবোধে তুমি তোমার পরিধানের বস্তু খুলে রাখতে পারবে। ‘ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।তিনি বলেন, যখন আমার ‘ইদ্দাত পূর্ণ হল তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালাম যে, মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) ও আবূ জাহ্ম (রাঃ) আমাকে বিবাহের পায়গাম পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আবূ জাহ্ম এমন একজন লোক যে, তার কাঁধ থেকে লাঠি নামিয়ে রাখে না। আর মু’আবিয়াহ্ তো কপর্দকহীন গরীব মানুষ। তুমি উসামাহ্ ইবনু যায়দের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও। কিন্তু আমি তাঁকে পছন্দ করলাম না। পরে তিনি আবার বললেন, তুমি উসামাহ্কে বিয়ে কর। তখন আমি তাঁর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। আল্লাহ এতে (তার ঘরে) আমাকে বিরাট কল্যাণ দান করলেন। আর আমি ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম।
ই.ফা. ৩৫৫৯, ই.সে. ৩৫৫৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়স (রা.)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁর স্বামী অনুপস্থিত অবস্থায় তাঁকে বায়িন তালাক দেন এবং সামান্য যব পাঠান। এতে তিনি অসন্তুষ্ট হন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি জানান। নবীজি বলেন, তাঁর জন্য স্বামীর ওপর খোরপোষ নেই। এরপর প্রথমে উম্মু শরীকের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে বলা হয়, সেখানে সাহাবারা বেশি আসা-যাওয়া করেন। তাই তাঁকে ইবনু উম্মু মাকতুম (রা.)-এর ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়, কারণ তিনি অন্ধ ছিলেন। ইদ্দত শেষ হলে ফাতিমা (রা.) বিয়ের প্রস্তাবের কথা জানান। নবীজি প্রস্তাবদাতাদের অবস্থা বিবেচনা করে উসামা ইবনু যায়দ (রা.)-কে বিয়ে করতে বলেন। এতে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত, নিরাপদ অবস্থান এবং বিবাহে ভালো পরামর্শ নেওয়ার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহ ও তালাকের সমস্যায় জ্ঞানী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
- ইদ্দতের জায়গা নির্বাচনে নিরাপত্তা ও শালীনতার বিষয় দেখা হয়েছে।
- বিয়ের প্রস্তাব এলে চরিত্র, অবস্থা ও বাস্তব দিক বিবেচনা করা দরকার।
- নবীজির পরামর্শ মানার ফলে ফাতিমা (রা.) কল্যাণ লাভ করেন।
