১৯/৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮৮ - আয়িশা (রা.)-এর নির্বাচন ও আখিরাত

স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে

স্ত্রীদের ইখতিয়ার: আয়িশা (রা.)-এর সুন্দর সিদ্ধান্ত

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৮৮

قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا مَضَى تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَدَأَ بِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَقْسَمْتَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا وَإِنَّكَ دَخَلْتَ مِنْ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ أَعُدُّهُنَّ . فَقَالَ " إِنَّ الشَّهْرَ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ - ثُمَّ قَالَ - يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ " . ثُمَّ قَرَأَ عَلَىَّ الآيَةَ { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ} حَتَّى بَلَغَ { أَجْرًا عَظِيمًا} قَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ عَلِمَ وَاللَّهِ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ فَقُلْتُ أَوَفِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ.قَالَ مَعْمَرٌ فَأَخْبَرَنِي أَيُّوبُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لاَ تُخْبِرْ نِسَاءَكَ أَنِّي اخْتَرْتُكَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ اللَّهَ أَرْسَلَنِي مُبَلِّغًا وَلَمْ يُرْسِلْنِي مُتَعَنِّتًا " . قَالَ قَتَادَةُ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا مَالَتْ قُلُوبُكُمَا.

যুহরী (রহঃ) বলেন, ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্র হতে বর্ণিতঃ

আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি তো কসম করেছিলেন একমাস পর্যন্ত আমাদের কাছে আসবেন না অথচ ঊনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। আমি এই দিনগুলো হিসেব করে রেখেছিলাম। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! আমি তোমাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সে সম্পর্কে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই।তখন তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেনঃ “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ কামনা কর তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ বিলাসের উপকরণের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন”- (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ২৮-২৯)।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এটা নির্ঘাত সত্য যে, আমার পিতামাতা কস্মিনকালেও আমাকে তাঁর (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ দিবেন না। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ বিষয়ে কি আমি আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করতে যাব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করি।মা’মার (রহঃ) বলেন, আইয়ূব আমাকে জানিয়েছেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, (হে আল্লাহ্‌র রাসূল!) আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগনের কাছে বলবেন না যে, আমি আপনাকেই ইখ্তিয়ার করে নিয়েছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, আল্লাহ আমাকে মুবাল্লিগ (সত্য প্রচারক) রূপে প্রেরণ করেছেন, বিপদে নিক্ষেপকারীরূপে পাঠাননি। ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) صَغَتْ قُلُوبُكُمَا এর অর্থ مَالَتْ قُلُوبُكُمَا “তোমাদের হৃদয় (অন্যায় প্রবণতার দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল” বলে উল্লেখ করেছেন।

ই.ফা. ৩৫৫৮, ই.সে. ৩৫৫৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রা.) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঊনত্রিশ দিন পর তাঁর কাছে আসেন। তিনি দিনগুলো হিসাব করে রেখেছিলেন। নবীজি বলেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি আয়িশা (রা.)-কে বলেন, একটি বিষয়ে তাড়াহুড়া না করে পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ করতে পারো। তিনি সূরা আহযাবের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে নবীজির স্ত্রীদের দুনিয়ার সাজসজ্জা অথবা আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। আয়িশা (রা.) দেরি না করে বলেন, তিনি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাত চান। এখানে স্ত্রীদের ইখতিয়ার, পরামর্শের সুযোগ, এবং আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়ার শিক্ষা আছে। শেষে নবীজি বলেন, আল্লাহ তাঁকে সত্য পৌঁছে দিতে পাঠিয়েছেন, কষ্টে ফেলতে নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করে পরামর্শের সুযোগ রাখা ভালো।
  • আয়িশা (রা.) আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে দুনিয়ার সাজসজ্জার উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সত্য পৌঁছে দিতেন, কাউকে অযথা কষ্টে ফেলতেন না।
  • চাঁদের মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনও হতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন