১৯/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৯২ - তিন তালাকের ইদ্দত ও বিয়ের সিদ্ধান্ত
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই
তিন তালাকের ইদ্দত: খোরপোষ, অবস্থান ও বিয়ে
সহীহ মুসলিম : ৩৫৯২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৯২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ - أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، أُخْتَ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا حَفْصِ بْنَ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيَّ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا ثُمَّ انْطَلَقَ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ لَهَا أَهْلُهُ لَيْسَ لَكِ عَلَيْنَا نَفَقَةٌ.فَانْطَلَقَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فِي نَفَرٍ فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ فَقَالُوا إِنَّ أَبَا حَفْصٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَهَلْ لَهَا مِنْ نَفَقَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَيْسَتْ لَهَا نَفَقَةٌ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ ". وَأَرْسَلَ إِلَيْهَا «أَنْ لاَ تَسْبِقِينِي بِنَفْسِكِ». وَأَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهَا " أَنَّ أُمَّ شَرِيكٍ يَأْتِيهَا الْمُهَاجِرُونَ الأَوَّلُونَ فَانْطَلِقِي إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَإِنَّكِ إِذَا وَضَعْتِ خِمَارَكِ لَمْ يَرَكِ». فَانْطَلَقَتْ إِلَيْهِ فَلَمَّا مَضَتْ عِدَّتُهَا أَنْكَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ.
যাহ্হাক ইবনু ক্বায়স-এর ভগ্নী ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর স্বামী আবূ হাফ্স ইবনু মুগীরাহ্ (রাঃ) তাঁকে একত্রে তিন তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি ইয়ামান চলে যান। তখন তাঁর(আবূ ‘আমর-এর) পরিবারের লোকজন তাঁকে (ফাত্বিমাকে) বলল, তোমার জন্য আমাদের দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই। এরপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) একদল লোকসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলেন। তখন তিনি মায়মূনাহ্ (রাঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা বললেন, (ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)!) আবূ হাফস্ তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন। এখন তাঁর স্ত্রী কি খোরপোষ পাবে?! বললেনঃ না, তাঁর জন্য কোন খোরপোষ নেই; তাঁর উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব।তিনি তাঁকে বলে পাঠালেন যে, তুমি আমাকে না জানিয়ে বিবাহের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। তিনি তাঁকে ইদ্দত পালনের জন্য উম্মু শারীক–এর ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে লোক মারফত জানিয়ে দিলেন যে, উম্মু শারীক এমন একজন মহিলা যার কাছে প্রাথমিক হিজরতকারী সাহাবীগণ যাওয়া আসা করে থাকেন। সুতরাং তুমি অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতূম এর ঘরে চলে যাও। কারণ সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার দোপাট্টা (ওড়না) নামিয়ে রাখলে সে তোমাকে দেখতে পাবে না। যখন তাঁর ইদ্দত পূর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিয়ে দিলেন।
ই.ফা. ৩৫৬২, ই.সে. ৩৫৬২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আবু হাফস ইবন মুগীরা (রা.) ফাতিমা বিনত কায়স (রা.)-কে তিন তালাক দেন এবং ইয়ামান চলে যান। তাঁর পরিবারের লোকেরা বলেন, তাঁর জন্য খোরপোষ নেই। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন, তাঁর জন্য খোরপোষ নেই, তবে তাঁর ওপর ইদ্দত পালন করা ফরজ। নবীজি তাঁকে নিজের সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করতে বলেন এবং ইদ্দতের জায়গা হিসেবে প্রথমে উম্মু শরীকের কথা আসে, পরে ইবনু উম্মু মাকতুম (রা.)-এর ঘরে যেতে বলা হয়। কারণ সেখানে শালীনতা রক্ষা সহজ ছিল। ইদ্দত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বিয়ে উসামা ইবনু যায়দ (রা.)-এর সঙ্গে সম্পন্ন করেন। এখানে তিন তালাক, ইদ্দত, নিরাপদ অবস্থান এবং বিয়েতে সঠিক পরামর্শের বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন তালাকের পরও ইদ্দত পালন করা ফরজ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- ইদ্দতের জায়গা নির্বাচনে মানুষের আসা-যাওয়া ও পর্দার বিষয় দেখা হয়েছে।
- বিয়ের সিদ্ধান্তে নবীজির পরামর্শ গ্রহণ করা ফাতিমা (রা.)-এর জন্য কল্যাণের কারণ হয়।
- ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করে দায়িত্বশীল পরামর্শ নেওয়া উচিত।
