১৯/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬০৫ - ইদ্দত, খোরপোষ ও বিয়ের পরামর্শ
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই
তালাকের পর ইদ্দত ও বিয়ের পরামর্শ: ফাতিমা (রা.)
সহীহ মুসলিম : ৩৬০৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬০৫
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ، أَبِي الْجَهْمِ قَالَ سَمِعْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، تَقُولُ أَرْسَلَ إِلَىَّ زَوْجِي أَبُو عَمْرِو بْنُ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِطَلاَقِي وَأَرْسَلَ مَعَهُ بِخَمْسَةِ آصُعِ تَمْرٍ وَخَمْسَةِ آصُعِ شَعِيرٍ فَقُلْتُ أَمَا لِي نَفَقَةٌ إِلاَّ هَذَا وَلاَ أَعْتَدُّ فِي مَنْزِلِكُمْ قَالَ لاَ .قَالَتْ فَشَدَدْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي وَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «كَمْ طَلَّقَكِ " . قُلْتُ ثَلاَثًا . قَالَ «صَدَقَ لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ . اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ ضَرِيرُ الْبَصَرِ تُلْقِي ثَوْبَكِ عِنْدَهُ فَإِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُكِ فَآذِنِينِي» .قَالَتْ فَخَطَبَنِي خُطَّابٌ مِنْهُمْ مُعَاوِيَةُ وَأَبُو الْجَهْمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ مُعَاوِيَةَ تَرِبٌ خَفِيفُ الْحَالِ وَأَبُو الْجَهْمِ مِنْهُ شِدَّةٌ عَلَى النِّسَاءِ - أَوْ يَضْرِبُ النِّسَاءَ أَوْ نَحْوَ هَذَا - وَلَكِنْ عَلَيْكِ بِأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ» .
আবূ বাক্র ইবনু আবূ জাহ্ম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ফাত্বিমাহ বিনতু ক্বায়সকে বলতে শুনেছি যে, আমার স্বামী আবূ ‘আমর হাফস্ ইবনু মুগীরাহ্ (রাঃ) ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী’আহ্-কে আমার নিকটে আমাকে ত্বলাক্ব দেয়ার সংবাদ দিয়ে পাঠান। তিনি তাঁর সাথে আমার খোরপোষের জন্য পাঁচ সা’ (এক সা’ সাড়ে তিন কেজির সমান) খেজুর এবং পাঁচ সা’ যব পাঠিয়ে দেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমার জন্য কি খোরপোষ এ পরিমাণ? আমি তোমাদের ঘরে ‘ইদ্দাত করব না। তিনি (‘আইয়্যাশ) বললেন, না তা হতে পারে না।তিনি (ফাত্বিমাহ্) বললেন, আমি তখন কাপড় চোপড় পরিধান করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, সে তোমাকে কত ত্বলাক্ব দিয়েছে? আমি বললাম, তিন ত্বলাক্ব। তিনি বললেন, সে (আয়্যাশ) ঠিকই বলেছে। তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি তোমার চাচাতো ভাই ইবনু উম্মু মাকতূমের ঘরে গিয়ে ইদ্দাত পালন কর। সে একজন অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তাঁর কাছে কাপড় চোপড় খুলে রাখতে পারবে। এরপর তোমার ‘ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।তিনি [ফাত্বিমাহ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)] বলেন, আমার ‘ইদ্দাতকাল অতিবাহিত হলে বেশ কয়েকজন লোক আমার কাছে বিয়ের পায়গাম পাঠালেন। তাঁর মধ্যে মু’আবিয়াহ্ ও আবু জাহ্মও ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মু’আবিয়াহ্ তো একজন গরীব মানুষ, নগণ্য সম্পদের অধিকারী আর আবূ জাহম তো নারীদের প্রতি কঠোর (অথবা বললেন) সে স্ত্রীদের লাঠিপেটা করে অথবা এরূপ কিছু বললেন। তবে উসামাহ্ ইবনু যায়দকেই গ্রহণ করা তোমার জন্য উচিত হবে।
ই.ফা. ৩৫৭৫, ই.সে. ৩৫৭৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়স (রা.) জানান, তাঁর স্বামী আবু আমর হাফস ইবনু মুগীরা (রা.) আইয়াশ ইবনু আবু রাবিয়া (রা.)-কে তালাকের সংবাদ দিয়ে পাঠান। সঙ্গে পাঁচ সা খেজুর ও পাঁচ সা যব দেন। ফাতিমা (রা.) জিজ্ঞেস করেন, তাঁর খোরপোষ কি এতটুকুই এবং তিনি কি তাঁদের ঘরে ইদ্দত করবেন না। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যান। নবীজি জিজ্ঞেস করেন, কত তালাক দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তিন তালাক। নবীজি বলেন, আইয়াশ ঠিক বলেছে; তাঁর জন্য খোরপোষ নেই। তাঁকে ইবনু উম্মু মাকতুম (রা.)-এর ঘরে ইদ্দত করতে বলা হয় এবং ইদ্দত শেষে জানাতে বলা হয়। পরে বিয়ের প্রস্তাব এলে নবীজি মুয়াবিয়া (রা.) ও আবু জাহম (রা.)-এর অবস্থা উল্লেখ করে উসামা (রা.)-কে গ্রহণের পরামর্শ দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের সংখ্যা জানার পর নবীজি সিদ্ধান্ত দেন।
- ইদ্দতের জায়গা হিসেবে নিরাপদ ও উপযোগী ঘর নির্দেশ করা হয়।
- বিয়ের প্রস্তাবে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা ও আচরণ বিবেচনা করা হয়েছে।
- তালাক ও বিয়ের বিষয়ে নবীজির পরামর্শ গ্রহণের শিক্ষা আছে।
