১৯/৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৯৬ - তিন তালাক, খোরপোষ ও কুরআনের আলোচনায়

বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই

তিন তালাকের পর বাসস্থান: ফাতিমা (রা.)-এর যুক্তি

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৯৬

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، خَرَجَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ إِلَى الْيَمَنِ فَأَرْسَلَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ بِتَطْلِيقَةٍ كَانَتْ بَقِيَتْ مِنْ طَلاَقِهَا وَأَمَرَ لَهَا الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِنَفَقَةٍ فَقَالاَ لَهَا وَاللَّهِ مَا لَكِ نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونِي حَامِلاً. فَأَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَذَكَرَتْ لَهُ قَوْلَهُمَا. فَقَالَ «لاَ نَفَقَةَ لَكِ». فَاسْتَأْذَنَتْهُ فِي الاِنْتِقَالِ فَأَذِنَ لَهَا. فَقَالَتْ أَيْنَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ «إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ». وَكَانَ أَعْمَى تَضَعُ ثِيَابَهَا عِنْدَهُ وَلاَ يَرَاهَا فَلَمَّا مَضَتْ عِدَّتُهَا أَنْكَحَهَا النَّبِيُّ ﷺ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا مَرْوَانُ قَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ يَسْأَلُهَا عَنِ الْحَدِيثِ فَحَدَّثَتْهُ بِهِ فَقَالَ مَرْوَانُ لَمْ نَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنِ امْرَأَةٍ سَنَأْخُذُ بِالْعِصْمَةِ الَّتِي وَجَدْنَا النَّاسَ عَلَيْهَا.فَقَالَتْ فَاطِمَةُ حِينَ بَلَغَهَا قَوْلُ مَرْوَانَ فَبَيْنِي وَبَيْنَكُمُ الْقُرْآنُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ﴿ الآيَةَ قَالَتْ هَذَا لِمَنْ كَانَتْ لَهُ مُرَاجَعَةٌ فَأَىُّ أَمْرٍ يَحْدُثُ بَعْدَ الثَّلاَثِ فَكَيْفَ تَقُولُونَ لاَ نَفَقَةَ لَهَا إِذَا لَمْ تَكُنْ حَامِلاً فَعَلاَمَ تَحْبِسُونَهَا

‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উত্‌বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ‘আম্‌র ইবনু হাফস্‌ ইবনু মুগীরাহ্‌ (রাঃ) ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)-এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রী ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়সকে অবশিষ্ট এক তালাকের কথা বলে পাঠালেন(দু’ তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবনু হিশাম ও ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী’আকে নিজের পক্ষ থেকে তাঁর (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁরা দু’জন তাঁকে (ফাত্বিমাকে) বললেন, আল্লাহর কসম! তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা।এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলেন এবং তাদের দু’জনের উক্তি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন তিনি বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, ইবনু উম্মু মাকতূমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তাঁর নিকট গাত্র বস্ত্র খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এরপর যখন তাঁর ইদ্দত পূর্ণ হল তখন নবী (ﷺ) তাঁকে উসামাহ্‌ ইবনু যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন।পরবর্তীকালে (উমাইয়্যাহ্‌ গভর্নর) মারওয়ান এ হাদীসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে ক্বাবীসাহ্‌ ইবনু যুআয়বকে তাঁর কাছে পাঠান। তখন তিনি তাঁর (ক্বাবীসার) কাছে এই হাদীস বর্ণনা করেন। এখবর শুনে মারওয়ান বললেন, একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমি এ হাদীস শুনিনি। আমরা এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি।ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)-এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পৌছলে তিনি বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্যে কোরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।” তিনি বলেন, এ আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রাজ’আতের অধিকার আছে। তাই তিন তালাকের পর নতুন করে আর কী থাকতে পারে? এরপর তোমরা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তাঁর জন্য কোন খোরপোষ নেই? এরপরও তোমরা তাঁকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে?

ই.ফা. ৩৫৬৬, ই.সে. ৩৫৬৬

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৯৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়স (রা.)-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে এসেছে। তাঁর স্বামী ইয়ামানে গিয়ে অবশিষ্ট তালাক পাঠান। হারিস ইবন হিশাম ও আইয়াশ ইবন আবু রবীআ তাঁকে বলেন, গর্ভবতী না হলে তাঁর খোরপোষ নেই। তিনি নবীজির কাছে গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁর জন্য খোরপোষ নেই। এরপর তিনি অন্যত্র যাওয়ার অনুমতি চান, এবং নবীজি তাঁকে ইবনু উম্মু মাকতুম (রা.)-এর ঘরে যেতে বলেন। ইদ্দত শেষে নবীজি তাঁকে উসামা ইবনু যায়দ (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ে দেন। পরে মারওয়ান এ বর্ণনা নিয়ে আপত্তি করলে ফাতিমা (রা.) কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ঘর থেকে বের না করার কথা তাঁদের জন্য, যাদের ক্ষেত্রে রুজআতের সুযোগ আছে। এই বর্ণনায় তিন তালাক, গর্ভ না থাকা, খোরপোষ, বাসস্থান এবং দলিল দিয়ে কথা বলার শিক্ষা এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ফাতিমা (রা.) নিজের বিষয়ে নবীজির সিদ্ধান্ত জানতে গিয়েছিলেন।
  • তিন তালাকের পর খোরপোষ ও বাসস্থান নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে।
  • মতভেদ হলে কুরআনের আয়াতকে সামনে রেখে কথা বলা হয়েছে।
  • ইদ্দত শেষে বিয়ের সিদ্ধান্তেও নবীজির পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন