২০/১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৪৭ - লি‘আনের বিধান ও আল্লাহর ফয়সালা

লি‘আন সম্পর্কে

লি‘আনের বিধান: কঠিন অভিযোগে শরীয়তের পথ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৪৭

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ وَاللَّهِ لأَسْأَلَنَّ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ . فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ أَوْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ . فَقَالَ " اللَّهُمَّ افْتَحْ " . وَجَعَلَ يَدْعُو فَنَزَلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ ﴾ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ﴿ هَذِهِ الآيَاتُ فَابْتُلِيَ بِهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَجَاءَ هُوَ وَامْرَأَتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَتَلاَعَنَا فَشَهِدَ الرَّجُلُ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ثُمَّ لَعَنَ الْخَامِسَةَ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ فَذَهَبَتْ لِتَلْعَنَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَهْ " . فَأَبَتْ فَلَعَنَتْ فَلَمَّا أَدْبَرَا قَالَ " لَعَلَّهَا أَنْ تَجِيءَ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا " . فَجَاءَتْ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا.

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি একবার জুমু’আর রাতে মাসজিদে ছিলাম। তখন একজন আনসারী সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে দেখতে পায়, সে যদি এ নিয়ে কথা বলে, তাহলে আপনারা তো তাকে (অপবাদদাতা হিসেবে) চাবুক লাগাবেন? অথবা সে যদি তাকে হত্যা করে ফেলে তাহলে তো আপনারা তাকে হত্যা করবেন (কিসাস হিসেবে)। যদি সে নীরব থাকে তাহলে তো তাকে সাংঘাতিক ক্রোধ (হযম) করে নীরব থাকতে হবে। আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবই।পরদিন সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে প্রশ্ন করল। সে বলল, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পুরুষকে (ব্যভিচারে লিপ্ত) দেখতে পায় এবং সে এ নিয়ে কথা বলে তাহলে আপনারা তাকে (অপবাদের শাস্তিস্বরূপ) চাবুক মারবেন, আর যদি সে (তাকে) হত্যা করে তাহলে আপনারা তাকে হত্যা করবেন। আর যদি নীরব থাকে তবে তো তাকে রাগ চেপে নীরব থাকতে হবে। (সুতরাং তার উপায় কী?) তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোয়া করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি এর ফয়সালা দাও এবং তিনি দোয়া করতে লাগলেন।তখন লি’আনের আয়াত অবতীর্ণ হলো- “ আর যারা তাদের স্ত্রীদের উপর অপবাদ দেয় অথচ তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই”- এ আয়াতগুলো। (সূরা আন্‌-নূর ২৮ : ৬-৯)এরপর সে ব্যক্তি লোকজনের সামনে লি’আনের পরীক্ষার মুখোমুখি হলো। তারপর সে তার স্ত্রীসহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এল এবং তারা উভয়ে লি’আন করল। লোকটি আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিল যে, সে সত্যবাদী। এরপর পঞ্চমবারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপরে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক।এরপর মহিলাটি লি’আনের জন্য এগিয়ে এলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ থাম (যদি তোমার স্বামীর উক্তি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা স্বীকার করে নাও)। কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং লি’আন করে ফেলল। যখন তারা দু’জন ফিরে যাচ্ছিল তখন (নাবী সাঃ) বললেনঃ সম্ভবত এ মহিলা কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করবে। অবশেষে তার গর্ভে কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তানই জন্ম নিয়েছিল।

ই.ফা.৩৬১৩, ই.সে.৩৬১৩

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৪৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে লি‘আনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। একজন আনসারী সাহাবী এমন কঠিন প্রশ্ন তুললেন, যেখানে স্বামী নিজের স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষকে দেখে কী করবে—কথা বললে অপবাদের শাস্তির ভয়, হত্যা করলে কিসাসের ভয়, আর চুপ থাকলে প্রচণ্ড রাগ সহ্য করার কষ্ট। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সঙ্গে সঙ্গে নিজের মত দিয়ে রায় দেননি; বরং আল্লাহর কাছে ফয়সালা চাইলেন। এরপর লি‘আনের আয়াত নাজিল হলো। এখানে মূল শিক্ষা হলো, পারিবারিক সংকট ও যিনার অভিযোগের মতো বড় বিষয়ে আবেগ নয়, আল্লাহর বিধানই পথ দেখায়। স্বামী চারবার সত্যতার শপথ করে, পঞ্চমবার নিজের ওপর লানত ডাকে যদি মিথ্যা বলে। স্ত্রীও লি‘আনের মাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করে। তাই লি‘আন, সাক্ষ্য, অপবাদ ও আল্লাহর ফয়সালা—সবই এই হাদিসের কেন্দ্রীয় বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্ত্রীর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগে ব্যক্তিগত রাগ নয়, শরীয়তের নির্ধারিত পদ্ধতি মানতে হয়।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কঠিন বিষয়ে আল্লাহর কাছে ফয়সালা চেয়েছেন; এতে দোয়ার গুরুত্ব বোঝা যায়।
  • লি‘আনে শপথ খুবই গুরুতর বিষয়; মিথ্যার আশঙ্কা থাকলে তা ভয় করার মতো।
  • মানুষের আবেগ যত প্রবল হোক, বিচার আল্লাহর বিধানের বাইরে যেতে পারে না।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন