২০/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৫০ - লি‘আন ও প্রমাণ ছাড়া রজম নয়
লি‘আন সম্পর্কে
লি‘আন ও প্রমাণ: আবেগ নয়, শরীয়তের বিচার
সহীহ মুসলিম : ৩৬৫০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৫০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، وَعِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيَّانِ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رُمْحٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ، بْنِ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ ذُكِرَ التَّلاَعُنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذَلِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يَشْكُو إِلَيْهِ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ أَهْلِهِ رَجُلاً.فَقَالَ عَاصِمٌ مَا ابْتُلِيتُ بِهَذَا إِلاَّ لِقَوْلِي فَذَهَبَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ وَكَانَ ذَلِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا قَلِيلَ اللَّحْمِ سَبِطَ الشَّعَرِ وَكَانَ الَّذِي ادَّعَى عَلَيْهِ أَنَّهُ وَجَدَ عِنْدَ أَهْلِهِ خَدْلاً آدَمَ كَثِيرَ اللَّحْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اللَّهُمَّ بَيِّنْ " .فَوَضَعَتْ شَبِيهًا بِالرَّجُلِ الَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّهُ وَجَدَهُ عِنْدَهَا فَلاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَهُمَا فَقَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمَجْلِسِ أَهِيَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ رَجَمْتُ هَذِهِ». فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ فِي الإِسْلاَمِ السُّوءَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট লি’আনের বিষয়টি আলোচিত হল। তখন ‘আসিম ইবনু ‘আদী (রাঃ) ঐ বিষয়ে কিছু কথা বলে ফিরে গেলেন। তখন তাঁর গোত্রের একজন লোক তাঁর কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এক (অপরিচিত) লোককে দেখতে পেয়েছে। তখন ‘আসিম (রাঃ) বললেন, আমি আমার উক্তির (বক্তব্যের) কারণে এ বিপদে পড়লাম। তিনি তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলেন।এরপর সে তাঁকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) সে ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করল যাকে সে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল। এ লোকটি (বর্ণনাদাতা) ছিল হলদে বর্ণ বিশিষ্ট হালকা-পাতলা ও সোজা চুলবিশিষ্ট। আর সে যাকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল সে ছিল সুঠাম দেহী, মোটা নলা ও বাদামী রং বিশিষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! তুমি বিষয়টি ফায়সালা করে দাও। সে মহিলা এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যে ছিল ঐ লোকটির মত যাকে স্বামী তাঁর সঙ্গে দেখতে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দু’জনের মধ্যে লি’আন করালেন।তখন এক ব্যক্তি সে মজলিসেই ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললঃ এ কি সে মহিলা যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, “যদি আমি বিনা দলীলে কাউকে ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপ) করতাম তবে একেই রজম করতাম।” তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না-সে ছিল অপর এক মহিলা যার অপকর্ম মুসলিমদের মাঝে প্রকাশিত ছিল।
ই.ফা. ৩৬১৬, ই.সে. ৩৬১৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লি‘আনের আরেকটি ঘটনা এসেছে। আসিম ইবন আদী রাঃ লি‘আন নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। পরে তার গোত্রের এক ব্যক্তি এসে জানাল, সে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে একজন লোককে দেখেছে। আসিম রাঃ তাকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে গেলেন। স্বামী যে ব্যক্তির কথা বলেছিল, তার দেহের বর্ণনা দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন, হে আল্লাহ! তুমি বিষয়টি স্পষ্ট করে দাও। পরে মহিলা এমন সন্তান প্রসব করল, যার চেহারা সেই ব্যক্তির মতো ছিল যাকে স্বামী দেখার দাবি করেছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের মধ্যে লি‘আন করালেন। একই মজলিসে ইবন আব্বাস রাঃ স্পষ্ট করলেন, প্রমাণ ছাড়া রজমের কথাটি এ মহিলার ব্যাপারে ছিল না। এতে বোঝা যায়, অভিযোগ যত কঠিনই হোক, প্রমাণ ও শরীয়তের নিয়ম ছাড়া শাস্তি দেয়া যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন অভিযোগের ক্ষেত্রেও শরীয়তের নিয়ম মানা জরুরি।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার দোয়া করেছেন।
- প্রমাণ ছাড়া শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে হাদিস সতর্ক করে।
- লি‘আন ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, শরীয়তের নির্ধারিত পদ্ধতি।
