২০/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৪৯ - হিলাল ইবন উমাইয়ার লি‘আন
লি‘আন সম্পর্কে
হিলাল ইবন উমাইয়ার লি‘আন: অভিযোগ ও ফয়সালা
সহীহ মুসলিম : ৩৬৪৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৪৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَأَنَا أُرَى، أَنَّ عِنْدَهُ، مِنْهُ عِلْمًا. فَقَالَ إِنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ بِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ وَكَانَ أَخَا الْبَرَاءِ بْنِ مَالِكٍ لأُمِّهِ وَكَانَ أَوَّلَ رَجُلٍ لاَعَنَ فِي الإِسْلاَمِ - قَالَ - فَلاَعَنَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَبْيَضَ سَبِطًا قَضِيءَ الْعَيْنَيْنِ فَهُوَ لِهِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ جَعْدًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ». قَالَ فَأُنْبِئْتُ أَنَّهَا جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ جَعْدًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একটি বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। আমার ধারণা ছিল যে, আমি যা জানতে চাই সে বিষয়ের জ্ঞান তাঁর কাছে আছে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ হিলাল ইবনু ‘উমাইয়্যাহ্ (রাঃ) শারীক ইবনু সাহমার সাথে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কে যিনার অভিযোগ আনলেন। তিনি ছিলেন বারা ইবনু মালিকের বৈপিত্রেয় ভাই। ইসলামে ইনিই সর্বপ্রথম লি’আন করেন।রাবী বলেনঃ তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে লি’আন সমাধা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ঐ মহিলার প্রতি নজর রাখবে। যদি সে সোজা চুলধারী উজ্জ্বল বর্ণের লাল চোখ বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে হিলাল ইবনু উমায়্যার ঔরসজাত সন্তান। আর যদি সে (মহিলা) সুরমা চোখ বিশিষ্ট কোঁকড়ানো চুল, পায়ের চিকন নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে শারীক ইবনু সাহমার সন্তান। রাবী আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি জানতে পারলাম যে, ঐ মহিলাটি সুরমা চোখ বিশিষ্ট কুঞ্চিত কেশধারী সরু নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করেছে।
ই.ফা.৩৬১৫, ই.সে.৩৬১৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল ইবন উমাইয়া রাঃ-এর ঘটনা এসেছে। তিনি শরীক ইবন সাহমার সঙ্গে নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে যিনার অভিযোগ আনেন। আনাস রাঃ বলেন, ইসলামে তিনিই প্রথম লি‘আন করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সন্তানের কিছু বাহ্যিক লক্ষণ উল্লেখ করেন। যদি সন্তান সোজা চুল, উজ্জ্বল বর্ণ ও লাল চোখের হয়, তবে তা হিলাল ইবন উমাইয়ার সঙ্গে মিলবে। আর যদি সুরমা চোখ, কোঁকড়া চুল ও চিকন পায়ের নলা বিশিষ্ট হয়, তবে তা শরীক ইবন সাহমার সঙ্গে মিলবে। পরে আনাস রাঃ জানতে পারেন, সন্তান দ্বিতীয় বর্ণনার মতো হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, লি‘আন কোনো সাধারণ অভিযোগ নয়; এটি বড় শপথ, গুরুতর দাবি এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনার অভিযোগ গুরুতর; এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে।
- লি‘আন শপথের বিষয়, তাই মিথ্যা দাবি থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঘটনার সঙ্গে সন্তানের লক্ষণও উল্লেখ করেছেন।
- হাদিসে যা বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাও তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
