২১/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭৫ - বারীরার সদাকা ও হাদিয়া
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ
বারীরার সদাকা, হাদিয়া ও ওয়ালার বিধান
সহীহ মুসলিম : ৩৬৭৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৭৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ، بَرِيرَةَ لِلْعِتْقِ فَاشْتَرَطُوا وَلاَءَهَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ " .وَأُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَحْمٌ فَقَالُوا لِلنَّبِيِّ ﷺ هَذَا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ. فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ " . وَخُيِّرَتْ . فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا . قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ سَأَلْتُهُ عَنْ زَوْجِهَا فَقَالَ لاَ أَدْرِي.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশে বারীরাকে খরিদ করার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু তারা (বারীরার মুনিবেরা) তার ‘ওয়ালা’ পাওয়ার শর্তারোপ করে বসল। তখন তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে উঠালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। মূলত ‘ওয়ালা’ সে পাবে যে মুক্ত করে দেয়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর জন্য কিছু গোশ্ত হাদিয়া রূপে পেশ করা হল। তখন তারা নবী (ﷺ)- কে বললেনঃ এ গোশ্ত বারীরাকে সদাকাহ্ হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সদাকাহ্ এবং আমাদের জন্যে হাদিয়া। তাকে (বারীরাকে) তার (ক্রীতদাস) স্বামীর বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। আবদুর রহমান বললেন, তার স্বামী স্বাধীন ছিল। শু’বাহ্ (রহঃ) বলেনঃ আমি পুনরায় তাকে (‘আবদুর রহমানকে) তার (বারীরাহ) স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার জানা নেই
ই.ফা. ৩৬৪১, ই.সে. ৩৬৪১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বারীরা (রাঃ)-কে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কিনতে চান। কিন্তু বারীরার মনিবেরা ওয়ালা পাওয়ার শর্ত করে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাকে কিনে মুক্ত করো; কারণ ওয়ালা সে-ই পাবে যে মুক্ত করে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে গোশত পেশ করা হলে বলা হয়, এটি বারীরা (রাঃ)-কে সদাকা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি তার জন্য সদাকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া। একই বর্ণনায় বারীরা (রাঃ)-কে স্বামীর বিষয়ে ইখতিয়ার দেওয়ার কথাও এসেছে। শেষে রাবীর বক্তব্যে স্বামীর অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার কথা আছে। তাই এই হাদিসে ‘বারীরার সদাকা হাদিয়া’ ও ‘ওয়ালা মুক্তিদাতার অধিকার’—দুইটি বিষয় গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুক্তির কাজ সম্পন্নকারীই ওয়ালার অধিকারী।
- সদাকা প্রাপক পরে তা হাদিয়া দিলে তার হুকুম ভিন্ন হতে পারে।
- রাবীরা কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হলে তা পরিষ্কারভাবে বলেছেন।
- হাদিস বুঝতে মূল বর্ণনা ও রাবীর মন্তব্য আলাদা করে দেখা দরকার।
