২১/২. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭৩ - বারীরার তিন শরীয়তী বিধান

প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ

বারীরার তিন বিধান: ওয়ালা, ইখতিয়ার ও হাদিয়া

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৭৩

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ قَضِيَّاتٍ أَرَادَ أَهْلُهَا أَنْ يَبِيعُوهَا وَيَشْتَرِطُوا وَلاَءَهَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ " اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ " .قَالَتْ وَعَتَقَتْ فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا. قَالَتْ وَكَانَ النَّاسُ يَتَصَدَّقُونَ عَلَيْهَا وَتُهْدِي لَنَا. فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ " هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَكُمْ هَدِيَّةٌ فَكُلُوهُ " .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

বারীরার কল্যাণে তিনটি শরী’আতী বিধান পাওয়া গিয়েছিল-১.তার মনিবেরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং তার ‘ওয়ালা’র উপর তাদের অধিকার লাভের শর্তারোপ করেছিল। আমি নবী (ﷺ)- এর কাছে বিষয়টি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা ‘ওয়ালা’- সেই পাবে যে আযাদ করে।২.যখন তাকে (বারীরাকে) মুক্ত করে দেয়া হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (তার ক্রীতদাস স্বামীকে রাখা, না রাখার) ইখ্‌তিয়ার দিয়েছিলেন। এরপর সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল। (তাঁর ক্রীতদাস স্বামীকে প্রত্যাখ্যান করল।)৩.তিনি (‘'আয়িশাহ্‌ (রাঃ)) বলেন, লোকেরা বারীরাকে সদাকাহ্‌ খয়রাত করত এবং সে তা (সদাকাহ্‌কৃত জিনিস) থেকে আমাদেরকে কিছু হাদিয়া হিসেবে দিত। এরপর আমি নবী (ﷺ)- এর কাছে বিষয়টি পেশ করলাম। তিনি বললেন, “তা তাঁর জন্য সদাকাহ্ এবং তোমাদের জন্য হাদিয়া। সুতরাং তোমরা তা খাও।”

ই.ফা. ৩৬৩৯, ই.সে. ৩৬৩৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, বারীরা (রাঃ)-এর ঘটনায় তিনটি শরীয়তী বিধান পাওয়া যায়। প্রথমত, তার মনিবেরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল, কিন্তু ওয়ালা নিজেদের জন্য রাখার শর্ত দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাকে কিনে মুক্ত করো; ওয়ালা সে-ই পাবে যে মুক্ত করে। দ্বিতীয়ত, বারীরা (রাঃ) মুক্ত হওয়ার পর স্বামীর বিষয়ে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, আর তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নেন। তৃতীয়ত, লোকেরা বারীরা (রাঃ)-কে সদাকা দিত, তিনি তা থেকে আয়িশা (রাঃ)-দের হাদিয়া দিতেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তা বারীরার জন্য সদাকা, আর তোমাদের জন্য হাদিয়া। এই হাদিসে ‘বারীরার তিন বিধান’ খুব সহজভাবে একত্রে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ওয়ালা মুক্তিদাতার অধিকার।
  • বারীরা (রাঃ)-কে মুক্তির পর স্বামীর বিষয়ে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল।
  • একই জিনিস একজনের জন্য সদাকা এবং অন্যের জন্য হাদিয়া হতে পারে।
  • হালাল-হারাম বুঝতে বিষয়টির অবস্থান ও প্রাপক গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন