২২/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭১০ - নাজাশ থেকে সতর্কতা
কোন ভাইয়ের কেনা-বেচার সময় তার মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্য বলা, কেউ কোন বস্তু কেনার জন্য দরাদরি করছে তার উপরে দরাদরি করা, ক্রয় করার ইচ্ছা ছাড়াই মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দাম বলা এবং বেশী দেখানোর জন্যে ওলানে দুধ জমা করা হারাম
নাজাশ নিষেধ: দাম বাড়িয়ে প্রতারণা নয়
সহীহ মুসলিম : ৩৭১০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৭১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنِ النَّجْشِ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ক্রয় করার ইচ্ছা ছাড়া মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশে মূল্য বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন।
ই.ফা. ৩৬৭৬, ই.সে. ৩৬৭৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি নির্দিষ্ট বাজার-প্রতারণা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নাজাশ থেকে বারণ করেছেন। হাদিসের অনুবাদে এর অর্থ এসেছে—ক্রয় করার ইচ্ছা ছাড়া মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মূল্য বলা। অর্থাৎ কেউ সত্যিই পণ্য কিনতে চায় না, কিন্তু অন্য ক্রেতাকে বেশি দামে কিনতে প্রভাবিত করার জন্য দাম বাড়িয়ে বলে। এতে ক্রেতা ভুল ধারণায় পড়ে এবং পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্য বুঝতে পারে না। ইসলামী ব্যবসার নীতি হলো স্বচ্ছতা ও সত্য বলা। নাজাশ করলে বাহ্যত দাম বাড়ে, কিন্তু লেনদেনে বিশ্বাস কমে যায়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, বাজারে লাভের চেষ্টা করা যাবে, কিন্তু মিথ্যা কৌশল দিয়ে অন্যকে চাপে ফেলা যাবে না। ক্রয়-বিক্রয়ে সততা রক্ষা করা একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেনার ইচ্ছা না থাকলে দাম বাড়িয়ে বলা ঠিক নয়।
- নাজাশ ক্রেতাকে ভুল ধারণায় ফেলতে পারে।
- ব্যবসায় লাভের চেষ্টা সত্য ও স্বচ্ছ পথে হওয়া উচিত।
- বাজারে বিশ্বাস রক্ষা করা মুসলিম আচরণের অংশ।
