১/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯ - হিদায়াত আল্লাহর হাতে
মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়া, মুশরিকদের ব্যাপারে ইসতিগফার রহিত হওয়া ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর জাহান্নামী হওয়া এবং সে কোন ওয়াসীলায় পরিত্রাণ না পাওয়ার দলীল
আবু তালিবের ঘটনা: হিদায়াত আল্লাহর হাতে
সহীহ মুসলিম : ৩৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৯
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ جَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " يَا عَمِّ قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . كَلِمَةً أَشْهَدُ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ " .فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ وَيُعِيدُ لَهُ تِلْكَ الْمَقَالَةَ حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . وَأَبَى أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَا وَاللَّهِ لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ " . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ﴿ . وَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ { إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ﴿.
সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
যখন আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার কাছে গেলেন এবং সেখানে তিনি আবূ জাহ্ল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যাহ্ ইবনু মুগীরাহকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে আমার চাচা! আপনি ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ কথাটি বলুন। এর দ্বারাই আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সাক্ষ্য দেব।তখন আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যাহ্ বলে ওঠলো, হে আবূ তালিব! তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাত (দ্বীন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? (অর্থাৎ সে দ্বীন পরিত্যাগ করবে?) এদিকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বার বার তাঁর কথাটি পেশ করতে থাকলেন। আবূ তালিব শেষ পর্যন্ত যে কথা বললেন তা হলো, তিনি ‘আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরই অবিচল থাকবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হয় আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবো।এ প্রসঙ্গে সুমহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, “নবী এবং ঈমানদারদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা শোভা পায় না, যদিও তারা (মুশরিকরা) নিকটাত্মীয় হয়। কেননা তারা যে জাহান্নামী হবে এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে”-[২৬] (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১১৩)।আবূ তালিবের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বললেন, “হে নবী! নিশ্চয়ই হিদায়াত আপনার হাতে নয় যে, যাকে আপনি চাইবেন হিদায়াত করতে পারবেন। বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন, আর কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে তিনিই বেশি জানেন”-[২৭] (সূরা আল কাসাস ২৮ : ৫৬)।
[২৬] আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর চাচা আবূ তালিব যখন মরণাপন্ন তখন রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার নিকট যান, সে সময় আবূ জাহ্ল ও ‘আবদুল্লাহ বিন উমাইয়্যাহ্ উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলতে বলেন, তখন আবূ জাহ্ল বাধা দিল।[২৭] রসূল (ﷺ)-এর চাচা কাফির হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার পরেও বললেন, আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করব, যতক্ষণ আল্লাহ নিষেধ না করবেন। আল্লাহ নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন মুশরিকদের জন্য ইসতিগফার করা যাবে না। আরও জানা গেল, প্রকৃত হিদায়াতের মালিক আল্লাহ তা‘আলা, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নন।ই.ফা. ৩৯; ই.সে. ৪০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু তালিবের মৃত্যুর সময়ের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর চাচাকে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন, যাতে তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য সাক্ষ্য দিতে পারেন। সেখানে আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবু উমাইয়্যাহ তাঁকে আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের কথা স্মরণ করিয়ে বারবার বাধা দেয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বারবার আহ্বান করলেন, কিন্তু আবু তালিব শেষ পর্যন্ত তা বলতে অস্বীকার করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা বললেন, যতক্ষণ না নিষেধ আসে। তারপর আয়াত নাজিল হয় যে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা শোভা পায় না, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়। আর আল্লাহ জানালেন, নবী যাকে ভালোবাসেন তাকে নিজে হিদায়াত দিতে পারেন না; আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো হিদায়াত আল্লাহর হাতে, আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর আহ্বান খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জনকেও তাওহীদের দিকে ডাকতে হবে।
- হিদায়াত দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহর হাতে।
- সামাজিক চাপ সত্য গ্রহণে বাধা হতে পারে।
- ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রেও আল্লাহর নির্দেশ মানতে হয়।
