২৩/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৩০ - হিজামা ও মজুরির শিক্ষা
শিঙ্গা লাগিয়ে মজুরী নেয়া হালাল
হিজামা চিকিৎসা ও মজুরি সম্পর্কে হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৩৯৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৯৩০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، فَقَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ " إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ أَوْ هُوَ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمْ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট শিঙ্গা দিয়ে উপার্জন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিঙ্গা (নিজ শরীরে) লাগিয়েছেন। আবূ তাইবাহ্ তাকে শিঙ্গা দিয়েছে। তিনি তাকে দু’সা’ খাদ্য বস্তু দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মুনিবের সাথে আলোচনা করেন। এতে তারা তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেনঃ তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও শিঙ্গা তার মধ্যে একটি উত্তম ব্যবস্থা অথবা (বলেছেন) এটা তোমাদের ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক।
ই. ফা. ৩৮৯৩, ই. সে. ৩৮৯২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো চিকিৎসা এবং হিজামাকারীর মজুরি—দুই বিষয়ই এসেছে। আনাস ইবনু মালিক রাঃ-কে শিঙ্গা দিয়ে উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজে হিজামা নিয়েছেন। আবু তাইবাহ তাঁকে হিজামা দেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তাকে দুই সা খাদ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ফলে তার ওপর ধার্য কর কমানো হয়। হাদিসে আরও এসেছে, চিকিৎসার যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়, হিজামা তার মধ্যে উত্তম বা অধিক উপকারী পদ্ধতির একটি। এখানে হিজামা চিকিৎসার মর্যাদা, শ্রমের মূল্য দেওয়া এবং অধীন ব্যক্তির কষ্ট কমানোর সুন্দর শিক্ষা একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজে হিজামা নিয়েছেন, তাই এটি চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃত।
- হিজামাকারীর শ্রমের মূল্য দেওয়া হয়েছে।
- অধীন ব্যক্তির ওপর চাপ কমাতে সুপারিশ করা নবী صلى الله عليه وسلم-এর আচরণে এসেছে।
- চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপকারী পদ্ধতি গ্রহণ করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য।
