২৩/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৩১ - হিজামা ও কুস্তুল বাহরি
শিঙ্গা লাগিয়ে মজুরী নেয়া হালাল
হিজামা, কুস্তুল বাহরি ও শিশুদের প্রতি দয়া
সহীহ মুসলিম : ৩৯৩১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৯৩১
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ وَالْقُسْطُ الْبَحْرِيُّ وَلاَ تُعَذِّبُوا صِبْيَانَكُمْ بِالْغَمْزِ " .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ)-এর নিকট শিঙ্গা দিয়ে মজুরী গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। অতঃপর তিনি এরূপ বর্ণনা করেন। তাছাড়া তিনি বলেন, তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও শিঙ্গা লাগানো এবং ‘কুসতুল বাহরী (চন্দন কাঠ) ব্যবহার তার মধ্যে অতি উত্তম ব্যবস্থা। অতএব তোমরা তোমাদের শিশুদের কণ্ঠনালী চেপে বসিয়ে দিয়ে কষ্ট দিও না।
ই. ফা. ৩৮৯৪, ই. সে. ৩৮৯৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রাঃ হিজামার মজুরি প্রসঙ্গে আগের মতোই বর্ণনা করেন। তবে এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, চিকিৎসার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে হিজামা এবং কুস্তুল বাহরি উত্তম ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের কণ্ঠনালী চেপে বসিয়ে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। তাই এই হাদিস শুধু হিজামা চিকিৎসা নিয়ে নয়; এতে চিকিৎসার সময় কোমলতা ও দয়ার শিক্ষাও আছে। শিশুরা দুর্বল, তাদের চিকিৎসা বা সেবায় কষ্টদায়ক পদ্ধতি ব্যবহার করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। হিজামা সম্পর্কে হাদিস খুঁজলে এই বর্ণনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে চিকিৎসা, মজুরি এবং শিশুদের প্রতি দয়া—তিনটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজামা ও কুস্তুল বাহরি চিকিৎসার উপকারী পদ্ধতি হিসেবে এসেছে।
- শিশুদের চিকিৎসায় কষ্টদায়ক আচরণ থেকে বাঁচতে হবে।
- উপকারের নামে অযথা কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
- চিকিৎসায় দয়া ও সহজতা বজায় রাখা দরকার।
