১/৮৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৬ - সাফা পাহাড়ে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্ আশ্ শু‘আরা ২৬ : ২১৪)
সাফা পাহাড়ে নবীজির ডাক: আমি কঠোর আযাবের সতর্ককারী
সহীহ মুসলিম : ৩৯৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৯৬
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ﴾ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ﴿ وَرَهْطَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ. خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا فَهَتَفَ " يَا صَبَاحَاهْ " . فَقَالُوا مَنْ هَذَا الَّذِي يَهْتِفُ قَالُوا مُحَمَّدٌ . فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَقَالَ " يَا بَنِي فُلاَنٍ يَا بَنِي فُلاَنٍ يَا بَنِي فُلاَنٍ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَقَالَ " أَرَأَيْتَكُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلاً تَخْرُجُ بِسَفْحِ هَذَا الْجَبَلِ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ " . قَالُوا مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ كَذِبًا. قَالَ " فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَىْ عَذَابٍ شَدِيدٍ " . قَالَ فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ تَبًّا لَكَ أَمَا جَمَعْتَنَا إِلاَّ لِهَذَا ثُمَّ قَامَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ السُّورَةُ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَقَدْ تَبَّ . كَذَا قَرَأَ الأَعْمَشُ إِلَى آخِرِ السُّورَةِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”- (সূরা আশ্ শু’আরা ২৬ : ২১৪) এবং তাদের মধ্য থেকে তোমার নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়কেও।”[৭৯] তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ।তারপর সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলো। তিনি (ﷺ) বললেন, হে অমুকের বংশধর! হে অমুকের বংশধর! হে ‘আব্দ মানাফ-এর বংশধর! হে ‘আবদুল মুত্তালিব-এর বংশধর! এতে সবাই তাঁর কাছে সমবেত হলো। নাবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শত্রু সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর ‘আযাব সম্পর্কে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?”তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও …...সূরার শেষ পর্যন্ত।” (সূরা লাহাব ১১১ : ১-৫)অবশ্য রাবী আ’মাশ (আরবি) এর পরিবর্তে (আরবি) পাঠ করেন।
[৭৯] ইমাম নাবাবী বলেনঃ (অত্র আয়াতটি) এটা কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছিল। পরে তার তিলাওয়াত মানসুখ হয়ে গেছে। এখানে এ অংশটুকুর উল্লেখ আছে। তবে বুখারীর বর্ণনায় এটা নেই। (মুসলিম তাহকীক- ফু’আদ ‘আবদুল বাকী ১ম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠা)ই.ফা. ৪০২; ই.সে. ৪১৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাফা পর্বতে উঠে “ইয়া সাবাহা” বলে ডাক দেন। লোকেরা জড়ো হলে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, যদি তিনি বলেন পাহাড়ের পাদদেশে অশ্বারোহী শত্রু আছে, তবে তারা কি তাঁকে বিশ্বাস করবে? তারা বলে, তাঁর মধ্যে কখনো মিথ্যা দেখেনি। এরপর তিনি বলেন, তিনি তাদের সামনে আসা কঠোর আযাব সম্পর্কে সতর্ককারী। হাদিসে আবু লাহাবের আপত্তি এবং সূরা লাহাব নাযিল হওয়ার কথাও এসেছে। মূল বিষয় হলো নবীজির সত্যবাদিতা, প্রকাশ্য দাওয়াত এবং আখিরাতের সতর্কতা। “সাফা পাহাড়ে নবীজির ডাক” এবং “কঠোর আযাবের সতর্ককারী” এই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড। এতে দেখা যায়, সত্য কথা জানার পরও কেউ বিরোধিতা করতে পারে; তবে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া নবীজির কাজ ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্যবাদিতা দাওয়াতের বড় ভিত্তি।
- নবীজি মানুষকে স্পষ্ট ভাষায় আখিরাতের আযাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
- সতর্কবার্তা শুনে অস্বীকার করা মানুষের নিজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- কুরআনের আয়াত ও নবীর দাওয়াত একসঙ্গে মানুষকে জাগিয়ে তোলে।
