২৫/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০৮৮ - আজীবন দানের মালিকানা বিধান
উমরার [২১] বর্ণনা
আজীবন দান করলে মালিকানা কার হয়?
সহীহ মুসলিম : ৪০৮৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪০৮৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَمْسِكُوا عَلَيْكُمْ أَمْوَالَكُمْ وَلاَ تُفْسِدُوهَا فَإِنَّهُ مَنْ أَعْمَرَ عُمْرَى فَهِيَ لِلَّذِي أُعْمِرَهَا حَيًّا وَمَيِّتًا وَلِعَقِبِهِ».
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সম্পত্তি ধরে রেখো, তা বিনষ্ট করো না। নিশ্চয় যে ব্যক্তি সারা জীবনের জন্যে দান করে, তবে তা তারই হয়ে যাবে, যাকে দান করা হলো, জীবিত অবস্থায় ও মৃত অবস্থায় এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের জন্যে।
ই.ফা. ৪০৫০, ই.সে. ৪০৪৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষকে সম্পদ ধরে রাখতে এবং তা বিনষ্ট না করতে বলেছেন। এরপর তিনি উমরা দান বা সারাজীবনের জন্য দানের হুকুম বলেছেন। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি সারাজীবনের জন্য কোনো কিছু দান করে, তবে সেটি দানগ্রহীতার হয়ে যায়। তার জীবিত অবস্থায়ও সেটি তার অধিকার, মৃত্যুর পরও তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য থেকে যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো দান করার আগে সম্পদের পরিণতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। উমরা দান কোনো সাময়িক ব্যবহার অনুমতি হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং দানগ্রহীতার অধিকার এবং তার বংশধরদের সঙ্গে জড়িত মালিকানা হিসেবে এসেছে। তাই আজীবন দান, উমরা দানের বিধান, দানকৃত সম্পদের ওয়ারিস—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব স্পষ্ট নির্দেশ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফলাফল বুঝে নেওয়া উচিত।
- আজীবনের জন্য দান করলে তা দানগ্রহীতার স্থায়ী অধিকার হয়ে যায়।
- দানগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিসরাও এতে অধিকার পায়।
- হাদিসটি সম্পদ নষ্ট না করার সতর্কতাও দেয়।
