২৫/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০৯০ - বাগান দান ও ওয়ারিসের অধিকার
উমরার [২১] বর্ণনা
আজীবন দান কি ওয়ারিসদের কাছে যায়?
সহীহ মুসলিম : ৪০৯০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪০৯০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَعْمَرَتِ امْرَأَةٌ بِالْمَدِينَةِ حَائِطًا لَهَا ابْنًا لَهَا ثُمَّ تُوُفِّيَ وَتُوُفِّيَتْ بَعْدَهُ وَتَرَكَتْ وَلَدًا وَلَهُ إِخْوَةٌ بَنُونَ لِلْمُعْمِرَةِ فَقَالَ وَلَدُ الْمُعْمِرَةِ رَجَعَ الْحَائِطُ إِلَيْنَا وَقَالَ بَنُو الْمُعْمَرِ بَلْ كَانَ لأَبِينَا حَيَاتَهُ وَمَوْتَهُ .فَاخْتَصَمُوا إِلَى طَارِقٍ مَوْلَى عُثْمَانَ فَدَعَا جَابِرًا فَشَهِدَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِالْعُمْرَى لِصَاحِبِهَا فَقَضَى بِذَلِكَ طَارِقٌ ثُمَّ كَتَبَ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ فَأَخْبَرَهُ ذَلِكَ وَأَخْبَرَهُ بِشَهَادَةِ جَابِرٍ فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ صَدَقَ جَابِرٌ . فَأَمْضَى ذَلِكَ طَارِقٌ . فَإِنَّ ذَلِكَ الْحَائِطَ لِبَنِي الْمُعْمَرِ حَتَّى الْيَوْمِ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাদীনার জনৈকা মহিলা তার একটা বাগান তার এক পুত্রকে আজীবনের জন্যে দান করেন। পরে পুত্রটি মারা যায় এবং তারপরে মহিলাটিও মারা যায়। পুত্র নিজে একটি সন্তান রেখে যায়। আর তার ছিল কয়েকজন ভাই, যারা দানকারিণীর পুত্র। তারপর দানকারিণীর পুত্র বললো, বাগানটি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। আর যাকে দান করা হয়েছিল তার পুত্ররা বললো বরং এ ছিল আমার পিতার, তার জীবদ্দশায় ও মৃত অবস্থায়।এরপর তারা ‘উসমান (রাঃ)- এর আযাদকৃত গোলাম তারিক (রহঃ)- এর নিকট ফায়সালা চাইলো। তিনি জাবির (রাঃ)- কে ডেকে পাঠালেন। জাবির (রাঃ) সাক্ষ্য দেন, জীবিতকালীন দান তারই প্রাপ্য, যাকে দান করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নির্দেশ দিয়েছেন। তারিক তদনুযায়ী ফায়সালা দেন। তারপর তিনি খালীফা 'আবদুল মালিককে এ ঘটনা লিখে জানান এবং জাবিরের সাক্ষ্য দান সম্পর্কেও তাঁকে অবগত করেন। 'আবদুল মালিক বলেন, জাবির (রাঃ) সত্যই বলেছেন। পরে তারিক (রহঃ) এ হুকুম জারি করেন। কাজেই বাগানটি আজ পর্যন্ত দানকৃত ব্যক্তির বংশধরদের অধিকারে রয়েছে।
ই.ফা. ৪০৫২, ই. সে. ৪০৫১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদিনার এক নারীর বাগান দানের ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর এক পুত্রকে বাগান আজীবনের জন্য দান করেন। পরে পুত্র মারা যায়, এরপর দানকারিণীও মারা যান। তখন দানকারিণীর অন্য পুত্ররা বলল, বাগানটি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। কিন্তু দানগ্রহীতার সন্তানরা বলল, এটি আমাদের পিতার ছিল, জীবিত অবস্থায়ও এবং মৃত্যুর পরও। এরপর ফায়সালা চাওয়া হলে জাবির (রাঃ) সাক্ষ্য দেন যে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আজীবন দানকে দানগ্রহীতার অধিকার বলেছেন। তারিক সেই অনুযায়ী ফায়সালা দেন, এবং বাগান দানগ্রহীতার বংশধরদের অধীনে থাকে। এই হাদিস উমরা দানের বাস্তব প্রয়োগ, মীরাস এবং দানকৃত সম্পদের মালিকানা পরিষ্কার করে। ফলে হাদিসটি শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তব পারিবারিক সম্পদ বিরোধে কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে তাও দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজীবন দান দাতার কাছে ফিরে আসে—এমন দাবি হাদিসে সমর্থন পায় না।
- ফায়সালার ক্ষেত্রে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশকে ভিত্তি করা হয়েছে।
- দানগ্রহীতার সন্তানরাও দানকৃত সম্পদের অধিকার পেতে পারে।
- সম্পদ নিয়ে বিরোধ হলে সাক্ষ্য ও ন্যায্য ফায়সালা জরুরি।
