১/৯৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১০ - পূর্ণিমার চাঁদের মতো জান্নাতি দল
হিসাব ও শাস্তি ছাড়াই মুসলিমদের একাধিক দল জান্নাতে প্রবেশ করার প্রমাণ
সত্তর হাজার জান্নাতি ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো চেহারা
সহীহ মুসলিম : ৪১০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১০
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " يَدْخُلُ مِنْ أُمَّتِي زُمْرَةٌ هُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا تُضِيءُ وُجُوهُهُمْ إِضَاءَةَ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ " .قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ الأَسَدِيُّ يَرْفَعُ نَمِرَةً عَلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ " ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের সংখ্যা হবে সত্তর হাজার। তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় চমকাতে থাকবে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তখন ‘উক্কাশাহ্ ইবনু মিহসান আসাদী দাঁড়ালেন। তাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল। বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। এরপর আরেকজন আনসারী দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এ সুযোগ লাভে ‘উক্কাশাহ্ তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে।
ই.ফা. ৪১৫; ই.সে. ৪২৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সত্তর হাজার জান্নাতির কথা আরও সুন্দরভাবে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁর উম্মতের একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করবে; তাদের সংখ্যা সত্তর হাজার এবং তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। এখানে জান্নাতে প্রবেশকারী দলের সম্মান ও সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এরপর উক্কাশা ইবনু মিহসান (রাঃ) উঠে দোয়া চান, যেন তিনিও তাদের মধ্যে থাকেন। নবীজি তাঁর জন্য দোয়া করেন। আরেকজন আনসারী একই দোয়া চাইলে নবীজি বলেন, উক্কাশা এ সুযোগে এগিয়ে গেছেন। হাদিসটি জান্নাতের আশা, দ্রুত ভালো কাজের আগ্রহ এবং নবীজির দোয়ার মর্যাদা শেখায়। এই বর্ণনায় চেহারার উজ্জ্বলতার কথা থাকলেও মানুষের কাজ হলো আল্লাহর রহমত কামনা করা এবং সৎ পথে চলার চেষ্টা করা। অতিরিক্ত দাবি না করে হাদিসের ভাষাতেই শিক্ষা নেওয়া নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের নিয়ামত আল্লাহর দয়ার বড় প্রকাশ।
- ভালো সুযোগ পেলে দেরি না করে সৎভাবে আগ্রহ দেখানো ভালো।
- উক্কাশা (রাঃ)-এর ঘটনা দোয়ার মূল্য বুঝায়।
