২৮/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৫৮ - ভ্রাতৃত্ব, খাবার ও কসমের শিক্ষা
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে।
খাবারের ঘটনায় কসমের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪১৫৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১৫৮
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، وَالْقَاسِمِ، التَّمِيمِيِّ عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، قَالَ كَانَ بَيْنَ هَذَا الْحَىِّ مِنْ جَرْمٍ وَبَيْنَ الأَشْعَرِيِّينَ وُدٌّ وَإِخَاءٌ فَكُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فِيهِ لَحْمُ دَجَاجٍ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
যাহদাম জারমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘জার্ম’ এর এ গোত্র এবং আশ‘আরীদের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একবার আমরা আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)- এর নিকটে ছিলাম, তখন তাঁর সামনে খাবার আনা হলো, যার মধ্যে মুরগির গোশতও ছিল। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ই.ফা. ৪১২০, ই.সে. ৪১১৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, জার্ম গোত্র ও আশআরীদের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা আবু মূসা আশআরী (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন। তখন তাঁর সামনে খাবার আনা হলো, যার মধ্যে মুরগির গোশত ছিল। এরপরের ঘটনা আগের হাদিসের মতো বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ একজনের ইতস্তত করা, আবু মূসা (রাঃ)-এর নবীজিকে মুরগির গোশত খেতে দেখার কথা বলা এবং কসমের পর উত্তম কাজের শিক্ষা—এসব বিষয় একই মর্মে এসেছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কসম শুধু মুখের কথা নয়; বাস্তবে তা মানুষের কাজকে প্রভাবিত করে। যদি কসমের কারণে ভালো বা বৈধ কাজ থেকে দূরে থাকা হয়, তবে নবীজির শেখানো পথ হলো কাফফারা দিয়ে উত্তম কাজ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের মধ্যে ভালো কথা ও শিক্ষা ভাগ করা যায়।
- খাবার অপছন্দের কারণে করা কসম পরে চিন্তা করে দেখা দরকার।
- কসমের কারণে ভালো কাজ ছেড়ে দিলে কাফফারার শিক্ষা আছে।
- নবীজির কাজ সাহাবীদের জন্য শিক্ষার ভিত্তি ছিল।
