২৮/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৬০ - কসম ভুলে নয়, উত্তম কাজের জন্য
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে।
কসম ভুলে নয়, উত্তম কাজ দেখে সিদ্ধান্ত
সহীহ মুসলিম : ৪১৬০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১৬০
وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا الصَّعْقُ، - يَعْنِي ابْنَ حَزْنٍ - حَدَّثَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنَا زَهْدَمٌ الْجَرْمِيُّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهُوَ يَأْكُلُ لَحْمَ دَجَاجٍ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ وَزَادَ فِيهِ قَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ مَا نَسِيتُهَا " .
যাহদাম জারমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ মূসা (রাঃ)- এর নিকট গমন করি। তখন তিনি মুরগীর গোশ্ত আহার করছিলেন। তিনি হাদীসের পরবর্তী অংশ উক্ত বর্ণনাকারীদের মতই বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কসম! আমি তা ভুলে যাইনি।
ই.ফা. ৪১২২, ই.সে. ৪০২১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাহদাম (রহঃ) বলেন, তিনি আবু মূসা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তখন আবু মূসা (রাঃ) মুরগির গোশত খাচ্ছিলেন। এরপর তিনি আগের বর্ণনাকারীদের মতো একই ঘটনা বর্ণনা করেন। তবে এখানে একটি অতিরিক্ত কথা এসেছে: নবীজি বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমি তা ভুলিনি। অর্থাৎ তিনি কসম ভুলে যাননি; বরং যখন অন্যটি উত্তম মনে হয়েছে, তখন সেই উত্তম কাজ করেছেন এবং কসম থেকে বের হওয়ার পথ নিয়েছেন। এই হাদিস কসমের কাফফারা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করে। কেউ ভাবতে পারে, কসমের পর অন্য কাজ করা মানে ভুলে যাওয়া; কিন্তু হাদিস দেখায়, বিষয়টি সচেতন সিদ্ধান্ত এবং শরিয়তের শেখানো পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসমের পর উত্তম কাজ করা ভুলে যাওয়ার কারণে নয়, সচেতন সিদ্ধান্ত হতে পারে।
- কসম ভাঙলে কাফফারার বিষয় মনে রাখতে হয়।
- নবীজির বক্তব্যে কসমের দায় ও ভালো কাজ—দুই দিকই আছে।
- খাবার বা অভ্যাসের বিষয়ে করা কসমও গুরুত্বহীন নয়।
