২৮/৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৬৭ - উত্তম কাজের জন্য কসম ভাঙা

যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে।

কসম ভেঙে উত্তম কাজ করার শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১৬৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ رُفَيْعٍ - عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، قَالَ جَاءَ سَائِلٌ إِلَى عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ فَسَأَلَهُ نَفَقَةً فِي ثَمَنِ خَادِمٍ أَوْ فِي بَعْضِ ثَمَنِ خَادِمٍ ‏.‏ فَقَالَ لَيْسَ عِنْدِي مَا أُعْطِيكَ إِلاَّ دِرْعِي وَمِغْفَرِي فَأَكْتُبُ إِلَى أَهْلِي أَنْ يُعْطُوكَهَا ‏.‏ قَالَ فَلَمْ يَرْضَ فَغَضِبَ عَدِيٌّ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لاَ أُعْطِيكَ شَيْئًا ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ رَضِيَ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ رَأَى أَتْقَى لِلَّهِ مِنْهَا فَلْيَأْتِ التَّقْوَى ‏"‏ ‏.‏ مَا حَنَّثْتُ يَمِينِي ‏.‏

তামীম ইবনু তারাফাহ্‌ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)- এর নিকট একজন প্রার্থী আসল। সে একজন দাসের মূল্য কিংবা দাসের মূল্যের কিছু অংশ সাহায্য করার প্রার্থনা জানায়। তিনি বললেন, একটি বর্ম ও লোহার টুপি ব্যতীত আমার নিকট তোমাকে দেয়ার মত আর কিছুই নেই। আমি আমার ঘরে লিখে দিচ্ছি যেন তারা এ দু’টি তোমাকে দিয়ে দেয়। রাবী বলেন, সে ব্যক্তি এতে রাজি হলো না।‘আদী এতে ক্রোধান্বিত হয়ে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে কিছুই দিব না। পরে লোকটি রাজি হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ জেনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, যে ব্যক্তি কোন ব্যাপারে কসম করে, অতঃপর তা অপেক্ষা বেশি আল্লাহর ভয়সম্পন্ন বিষয় দেখে, তবে সে যেন তাক্ওয়াপূর্ণ বিষয়টিই করে, তাহলে আমি আমার কসম ভঙ্গ করতাম না।

ই.ফা. ৪১২৯, ই.সে. ৪১২৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৬৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। একজন প্রার্থী তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি বর্ম ও লোহার টুপি দিতে চান। প্রথমে লোকটি রাজি না হওয়ায় তিনি রাগ করে কসম করেন যে, তিনি কিছুই দেবেন না। পরে লোকটি রাজি হলে আদী (রাঃ) নিজের কসমের কথা মনে করেন। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা জানতেন—যে ব্যক্তি কসম করে, তারপর তার চেয়ে বেশি আল্লাহভীতির কাজ দেখে, সে যেন তাকওয়ার কাজটাই করে। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কসমকে জেদের বিষয় বানানো ঠিক নয়। যদি কসমের বিপরীতে উত্তম কাজ, দান, উপকার বা তাকওয়ার পথ সামনে আসে, তাহলে উত্তম কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে কসম ভঙ্গের বিষয়টি নিজের খেয়াল নয়, বরং আল্লাহভীতি ও ভালো কাজের সাথে যুক্ত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কসম করার পর ভালো কাজ সামনে এলে জেদ ধরে থাকা উচিত নয়।
  • দান ও উপকারের সুযোগ এলে আল্লাহভীতির দিকটি আগে ভাবতে হবে।
  • রাগের সময় কসম করা মানুষকে পরে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে।
  • তাকওয়াপূর্ণ কাজ কসমের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন