২৯/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৬৯ - তিন ক্ষেত্রে বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা
মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ
মুসলিম জীবনের নিরাপত্তা ও তিন বিচারযোগ্য অবস্থা
সহীহ মুসলিম : ৪২৬৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৬৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لأَحْمَدَ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " وَالَّذِي لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ لاَ يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ التَّارِكُ الإِسْلاَمَ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ أَوِ الْجَمَاعَةَ - شَكَّ فِيهِ أَحْمَدُ - وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ " .قَالَ الأَعْمَشُ فَحَدَّثْتُ بِهِ، إِبْرَاهِيمَ فَحَدَّثَنِي عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِمِثْلِهِ .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই; এমন কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কিন্তু তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত-১. যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী হয়। আহ্মাদ (রহঃ) لِلْجَمَاعَةِ.. অথবা الْجَمَاعَةَ. শব্দ বর্ণনায় সন্দেহ করেছেন;২. বিবাহিত ব্যভিচারী এবং৩. জীবনের বিনিময়ে জীবন। অর্থাৎ- কিসাস গ্রহণ।আ’মাশ (রহঃ) বলেন যে, আমি ইব্রাহীমের নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলাম, তিনিও আসওয়াদ (রহঃ)-এর সূত্রে ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
ই.ফা. ৪২৩০, ই.সে. ৪২৩০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়িয়ে মানুষকে একটি বড় নীতি জানালেন। তিনি আল্লাহর কসম করে বললেন, এমন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে আল্লাহর একত্ব ও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়। এরপর তিন প্রকার ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে: ইসলাম ত্যাগ করে মুসলিমদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিবাহিত হয়েও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা—যার ক্ষেত্রে জীবনের বিনিময়ে জীবন বা কিসাসের কথা এসেছে। বর্ণনায় আহমাদ (রহঃ)-এর শব্দ নিয়ে সামান্য সন্দেহের কথাও আছে। এতে বুঝা যায়, রাবীরা শব্দ সংরক্ষণে সতর্ক ছিলেন। হাদিসটি মানুষের জানের মর্যাদা, বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলাম মুসলিমের জীবনকে সম্মান ও নিরাপত্তা দিয়েছে।
- কিসাসের বিষয়টি নির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, সাধারণ প্রতিশোধ নয়।
- রাবীরা শব্দ সংরক্ষণে সতর্ক ছিলেন, তাই বর্ণনার পার্থক্য উল্লেখ করেছেন।
- বড় অপরাধের বিচার ন্যায় ও প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া দরকার।
