২৯/১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৭৯ - কিসাসে ক্ষমার শিক্ষা
হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়াএবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কিসাসের দাবি করা বৈধ, হত্যাকারী ব্যক্তির নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট ক্ষমার আবেদন করা মুস্তাহাব
কিসাস ও ক্ষমা: হত্যার ঘটনায় নবীজির শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪২৭৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৭৯
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ، حَرْبٍ أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ وَائِلٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ قَالَ إِنِّي لَقَاعِدٌ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ يَقُودُ آخَرَ بِنِسْعَةٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا قَتَلَ أَخِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَقَتَلْتَهُ» . فَقَالَ إِنَّهُ لَوْ لَمْ يَعْتَرِفْ أَقَمْتُ عَلَيْهِ الْبَيِّنَةَ . قَالَ نَعَمْ. قَتَلْتُهُ قَالَ «كَيْفَ قَتَلْتَهُ» . قَالَ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ نَخْتَبِطُ مِنْ شَجَرَةٍ فَسَبَّنِي فَأَغْضَبَنِي فَضَرَبْتُهُ بِالْفَأْسِ عَلَى قَرْنِهِ فَقَتَلْتُهُ. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " هَلْ لَكَ مِنْ شَىْءٍ تُؤَدِّيهِ عَنْ نَفْسِكَ " . قَالَ مَا لِي مَالٌ إِلاَّ كِسَائِي وَفَأْسِي. قَالَ «فَتَرَى قَوْمَكَ يَشْتَرُونَكَ» . قَالَ أَنَا أَهْوَنُ عَلَى قَوْمِي مِنْ ذَاكَ. فَرَمَى إِلَيْهِ بِنِسْعَتِهِ. وَقَالَ «دُونَكَ صَاحِبَكَ» . فَانْطَلَقَ بِهِ الرَّجُلُ فَلَمَّا وَلَّى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنْ قَتَلَهُ فَهُوَ مِثْلُهُ».فَرَجَعَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ " إِنْ قَتَلَهُ فَهُوَ مِثْلُهُ " . وَأَخَذْتُهُ بِأَمْرِكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَمَا تُرِيدُ أَنْ يَبُوءَ بِإِثْمِكَ وَإِثْمِ صَاحِبِكَ» . قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ - لَعَلَّهُ قَالَ - بَلَى. قَالَ " فَإِنَّ ذَاكَ كَذَاكَ " . قَالَ فَرَمَى بِنِسْعَتِهِ وَخَلَّى سَبِيلَهُ.
আলকামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর পিতা তার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি একদা নবী (ﷺ)-এর সাথে বসেছিলাম। এমন সময় একটি লোক অপর এক ব্যক্তিকে চামড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে আগমন করল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? (তখন সে বলল, যদি সে তা স্বীকার না করতো, তবে আমি তার উপর সাক্ষী দাঁড় করাতাম।) সে তখন বলল, হ্যাঁ আমি তাকে হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছ? সে বলল, আমি এবং সে গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলাম। এমন সময় সে আমাকে গালি দিল। এতে আমার রাগ চড়ে গেল। তখন আমি কুঠার দ্বারা তার মাথায় আঘাত করলাম। এভাবে আমি তাকে হত্যা করেছি।তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার কি এমন কোন সম্পদ আছে যদ্দ্বারা ‘দিয়্যাত’ (রক্তপণ) পরিশোধ করবে? তখন সে বলল, আমার কাছে একটি কম্বল ও কুঠার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা কি তোমার নিকট থেকে এগুলো কিনে নিয়ে তোমাকে মুক্ত করিয়ে নেবে? সে বলল, আমার সম্প্রদায়ের কাছে আমার এতখানি মর্যাদা নেই। অতএব তিনি তার বন্ধনের দড়ি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেনঃ তুমি তোমার সাথীকে আটকে রাখ। সে তখন তাকে নিয়ে চলে গেল।যখন সে পিছনের দিকে যাচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি সে তাকে হত্যা করে-তবে সেও তার সমকক্ষ হয়ে গেল। এ কথা শুনে সে ফিরে এলো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি শুনলাম, আপনি বলছেন : ‘যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সে তার সমান হয়ে যাবে।’ আমি তো তাকে আপনার নির্দেশেই ধরে এনেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এ চাওনা যে, সে তোমার এবং তোমার ভাইয়ের পাপের বোঝা গ্রহণ করুক। তখন সে বলল, তাই কি হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন সে বলল, যদি তাই হয়, (তবে ভাল)। এ বলে সে তার বন্ধনের দড়ি নিক্ষেপ করল এবং তাকে মুক্ত করে দিল।
ই.ফা. ৪২৪০, ই.সে. ৪২৪০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব বিচারঘটনা এসেছে। একজন ব্যক্তি আরেকজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনল এবং বলল, সে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। হত্যাকারী নিজেই স্বীকার করল যে, গাছের পাতা সংগ্রহের সময় গালি শুনে রাগে সে কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। নবীজি তার কাছে জিজ্ঞেস করলেন, তার কাছে দিয়্যাত দেওয়ার মতো সম্পদ আছে কি না। সে বলল, কম্বল ও কুঠার ছাড়া কিছু নেই। এরপর নিহতের উত্তরাধিকারী তাকে নিয়ে চলে গেলে নবীজি বললেন, যদি সে তাকে হত্যা করে, তবে সেও তার সমকক্ষ হয়ে যাবে। পরে সে ফিরে এলো, কথা শুনল এবং শেষ পর্যন্ত দড়ি ফেলে তাকে ছেড়ে দিল। এই হাদিস রাগের ভয়, কিসাসের গুরুতরতা এবং ক্ষমার দরজা স্মরণ করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের মুহূর্তে করা আঘাত বড় অপরাধে পরিণত হতে পারে।
- স্বীকারোক্তি ও বিচার—দুইটি বিষয় হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- কিসাসের অধিকার থাকলেও ক্ষমার দিকটি গুরুত্বসহকারে স্মরণ করানো হয়েছে।
- প্রতিশোধের আগে পরিণতি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
