৩০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩২০ - মা’ইয রাঃ, হদ্দ ও নববী সতর্কতা
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে
মা’ইয রাঃ-এর হদ্দ চাওয়া, যাচাই ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভাষণ
সহীহ মুসলিম : ৪৩২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৩২০
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي، سَعِيدٍ أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ يُقَالُ لَهُ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ إِنِّي أَصَبْتُ فَاحِشَةً فَأَقِمْهُ عَلَىَّ . فَرَدَّهُ النَّبِيُّ ﷺ مِرَارًا قَالَ ثُمَّ سَأَلَ قَوْمَهُ فَقَالُوا مَا نَعْلَمُ بِهِ بَأْسًا إِلاَّ أَنَّهُ أَصَابَ شَيْئًا يَرَى أَنَّهُ لاَ يُخْرِجُهُ مِنْهُ إِلاَّ أَنْ يُقَامَ فِيهِ الْحَدُّ - قَالَ - فَرَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَمَرَنَا أَنْ نَرْجُمَهُ - قَالَ - فَانْطَلَقْنَا بِهِ إِلَى بَقِيعِ الْغَرْقَدِ - قَالَ - فَمَا أَوْثَقْنَاهُ وَلاَ حَفَرْنَا لَهُ - قَالَ - فَرَمَيْنَاهُ بِالْعَظْمِ وَالْمَدَرِ وَالْخَزَفِ - قَالَ - فَاشْتَدَّ فَاشْتَدَدْنَا خَلْفَهُ حَتَّى أَتَى عُرْضَ الْحَرَّةِ فَانْتَصَبَ لَنَا فَرَمَيْنَاهُ بِجَلاَمِيدِ الْحَرَّةِ - يَعْنِي الْحِجَارَةَ - حَتَّى سَكَتَ - قَالَ - ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَطِيبًا مِنَ الْعَشِيِّ فَقَالَ " أَوَكُلَّمَا انْطَلَقْنَا غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَخَلَّفَ رَجُلٌ فِي عِيَالِنَا لَهُ نَبِيبٌ كَنَبِيبِ التَّيْسِ عَلَىَّ أَنْ لاَ أُوتَى بِرَجُلٍ فَعَلَ ذَلِكَ إِلاَّ نَكَّلْتُ بِهِ " . قَالَ فَمَا اسْتَغْفَرَ لَهُ وَلاَ سَبَّهُ .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আসলাম গোত্রের মা’ইয ইবনু মালিক নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শরীয়তের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী (ﷺ) তাঁর এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তাঁরা বলল, আমরা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি ‘হদ’ الْحَدُّ শরীয়তের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিষ্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন তাকে ‘বাকীউল গারকাদ’ নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাঁধলাম না এবং মাটিতে পুঁতলামও না। এরপর আমরা তাঁকে হাড়, মৃত্তিকা, ঢিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌঁড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে ‘হাররাহ্’ নামক স্থানে উপনীত হলো। আমরা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল অর্থাৎ- মরে গেল।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (ﷺ) তার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। (দোয়া এজন্য করেননি যে, হয়তো এ আশায় কেউ আবার পাপচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।)
ই. ফা ৪২৭৯, ই. সে. ৪২৮০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মা’ইয ইবন মালিক রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, তিনি এক গর্হিত কাজ করেছেন, তাই তাঁর ওপর শরীয়তের বিধান প্রয়োগ করা হোক। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর স্বীকারোক্তি কয়েকবার ফিরিয়ে দেন। এরপর তাঁর গোত্রের লোকদের কাছে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তারা জানায়, তাঁর সম্পর্কে খারাপ কিছু জানে না, তবে তিনি এমন কাজে লিপ্ত হয়েছেন এবং মনে করছেন হদ্দ ছাড়া মুক্তি নেই। এরপর তিনি ফিরে এলে রজমের আদেশ দেওয়া হয়। বর্ণনায় এসেছে, তাকে বাঁধা হয়নি, মাটিতে পোঁতাও হয়নি। পরে নবী صلى الله عليه وسلم ভাষণে যিনার মতো পাপ থেকে সতর্ক করেন। শেষে বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং গালিও দেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم স্বীকারোক্তি কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়ে সতর্কতা দেখিয়েছেন।
- মা’ইয রাঃ-এর অবস্থা তাঁর গোত্রের কাছে যাচাই করা হয়েছে।
- শাস্তির পরও তাকে গালি দেওয়া হয়নি বলে বর্ণনায় এসেছে।
- যিনা থেকে সমাজকে সতর্ক করা হয়েছে।
