৩৩/৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৩৪ - যুদ্ধে নিরাপত্তা, ধৈর্য ও দোয়া

শত্রুর সাথে সম্মুখ যুদ্ধের আকাঙ্খা করা নিষেধ; তবে যুদ্ধের মুখোমুখির বেলায় ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ

যুদ্ধে নিরাপত্তা কামনা, ধৈর্য ও রাসূলের দোয়া

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৩৪

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُوسَى، بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ كِتَابِ، رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَىفَكَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ حِينَ سَارَ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ يُخْبِرُهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ يَنْتَظِرُ حَتَّى إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ قَامَ فِيهِمْ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ وَقَالَ " اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ " .

আবূ নাযর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবাদের মধ্য থেকে আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তির যার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা-চিঠি থেকে বর্ণনা করেছেন। এ চিঠি তিনি লিখেছিলেন উমর ইবনু উবাইদুল্লাহ (রহঃ)-এর নিকট, যখন তিনি হারূরিয়্যাহ (খারিজীদের বিরুদ্ধে) অভিযানে যাচ্ছিলেন। এতে তিনি তাঁকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব যুদ্ধে শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিলেন তার কোন একযুদ্ধে অপেক্ষা করতে লাগলেন।অবশেষে যখন সূর্য ঢলে পড়ল তখন তিনি সঙ্গীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোকজন! তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা করো। আর যখন তোমরা শত্রুর সামনা-সামনি হয়ে যাও তখন ধৈর্য ধারণ করবে। আর জেনে রেখো যে, জান্নাত তরবারির ছায়াতলে। তারপর নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে দোয়া করলেন, ইয়া আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রুদলকে পরাস্তকারী। তুমি তাদের পরাস্ত করো এবং তাদের উপর আমাদেরকে সাহায্য করো।

ই.ফা. ৪৩৯২, ই.সে. ৪৩৯২

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৩৪-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুদ্ধের সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে নিষেধ করেছেন এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইতে বলেছেন। এর মানে হলো, মুমিন অযথা সংঘর্ষ চায় না। তবে যদি শত্রুর সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়, তখন ধৈর্য ধারণ করতে হবে। হাদিসে আরও এসেছে, জান্নাত তরবারির ছায়াতলে—এ বাক্যটি যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা ও আল্লাহর পথে ধৈর্যের মূল্য বোঝায়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করেছেন: আল্লাহ কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রুদলকে পরাস্তকারী। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। এই হাদিস যুদ্ধের সময় অহংকার নয়, বরং নিরাপত্তা, ধৈর্য, আল্লাহর উপর ভরসা ও দোয়ার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অযথা সংঘর্ষ কামনা না করে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইতে হবে।
  • পরিস্থিতি এলে ধৈর্য ও স্থিরতা জরুরি।
  • কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা নববী শিক্ষা।
  • যুদ্ধের সময় অহংকার নয়, আল্লাহর উপর ভরসা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন