৩৩/৩৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫৪১ - সিজদায় নবীজিকে কষ্ট দেওয়ার ঘটনা

মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (ﷺ)-এর দুঃখ-যাতনা

কাবার পাশে সিজদায় নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে কষ্ট দেওয়ার ঘটনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫৪১

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ وَأَبُو جَهْلٍ وَأَصْحَابٌ لَهُ جُلُوسٌ وَقَدْ نُحِرَتْ جَزُورٌ بِالأَمْسِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى سَلاَ جَزُورِ بَنِي فُلاَنٍ فَيَأْخُذُهُ فَيَضَعُهُ فِي كَتِفَىْ مُحَمَّدٍ إِذَا سَجَدَ فَانْبَعَثَ أَشْقَى الْقَوْمِ فَأَخَذَهُ فَلَمَّا سَجَدَ النَّبِيُّ ﷺ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ قَالَ فَاسْتَضْحَكُوا وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَمِيلُ عَلَى بَعْضٍ وَأَنَا قَائِمٌ أَنْظُرُ .لَوْ كَانَتْ لِي مَنَعَةٌ طَرَحْتُهُ عَنْ ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَالنَّبِيُّ ﷺ سَاجِدٌ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ حَتَّى انْطَلَقَ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَ فَاطِمَةَ فَجَاءَتْ وَهِيَ جُوَيْرِيَةُ فَطَرَحَتْهُ عَنْهُ . ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَشْتِمُهُمْ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ ﷺ صَلاَتَهُ رَفَعَ صَوْتَهُ ثُمَّ دَعَا عَلَيْهِمْ وَكَانَ إِذَا دَعَا دَعَا ثَلاَثًا .وَإِذَا سَأَلَ سَأَلَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا سَمِعُوا صَوْتَهُ ذَهَبَ عَنْهُمُ الضِّحْكُ وَخَافُوا دَعْوَتَهُ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ " . وَذَكَرَ السَّابِعَ وَلَمْ أَحْفَظْهُ فَوَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا ﷺ بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ الَّذِينَ سَمَّى صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ ثُمَّ سُحِبُوا إِلَى الْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ .قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ غَلَطٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা নবী (ﷺ) বাইতুল্লাহিল হারামের নিকট সালাত আদায় করছিলেন। আবূ জাহল ও তার সাথীরা অদূরে উপবিষ্ট ছিল। পূর্বদিন সেখানে একটি উট নহর করা হয়েছিল। আবূ জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়ি-ভূড়িসহ) জরায়ুকে নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মদ (ﷺ) যখন সিজদারত হবে, তখন তার দুকাঁধের মাঝখানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে হতভাগা দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়াল এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী (ﷺ) সিজ্‌দায় গেলেন তখন তাঁর দুকাঁধেরমাঝখানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগল এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগল, আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকতো তবে আমি তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম। নবী (ﷺ) সিজ্‌দায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাকে খবর দিল। ফাতিমা সাথে সাথে আসলেন। আর তিনি তখন বালিকা। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকেমন্দাচারের বিষয়ে বলছিলেন। তারপর যখন নবী (ﷺ) সালাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদোয়া দিলেন আর তিনি যখন দোয়া করতেন (সাধারণতঃ) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেন “ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরেই কুরায়শদের বিচারের ভার ন্যস্ত করলাম। যখন তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তাঁরবদ দোয়ায় ভয় পেয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌! আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, ওয়ালিদ ইবনু উক্‌বাহ্‌, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ ও উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মুআ’য়তের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম আরেকজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বাদ্‌রের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বাদ্‌রের একটি নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। আবূ ইসহাক্‌ বলেন, ওয়ালিদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে হয়েছে।

ই.ফা. ৪৪৯৮,ই.সে. ৪৫০০

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবন মাসউদ (রাঃ) কাবার কাছে ঘটে যাওয়া একটি কঠিন ঘটনা বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাত আদায় করছিলেন, আর আবু জাহল ও তার সাথীরা বসে ছিল। তারা উটের নাড়ি-ভুঁড়িসহ জরায়ু এনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সিজদার সময় তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দেয়। তারা হাসাহাসি করছিল, আর নবীজি মাথা তুলতে পারছিলেন না। পরে ফাতিমা (রাঃ) এসে তা সরিয়ে দেন। সালাত শেষ করে নবীজি উচ্চস্বরে কুরাইশের বিরুদ্ধে দোয়া করেন এবং কয়েকজনের নাম নেন। রাবী বলেন, বদরের দিন তাদের লাশ তিনি দেখেছেন। এই হাদিসে নবীজির কষ্ট, সালাতের সময় অপমান, ফাতিমা (রাঃ)-এর সাহস এবং দোয়ার বাস্তবতা এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাতের মধ্যেও শত্রুদের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন।
  • ফাতিমা (রাঃ) ছোট বয়সেও নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
  • জুলুমের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দোয়া করা হাদিসে এসেছে।
  • অন্যায়কারীদের হাসি সাময়িক হলেও শেষ পরিণতি আল্লাহর হাতে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন