৩৪/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৩২ - কর্মচারীর উপহার ও আমানতের হিসাব
সরকারী কর্মচারীদের উপহার গ্রহণ নিষিদ্ধ
কর্মচারীর উপহার: দায়িত্বের আমানত ও হিসাব
সহীহ মুসলিম : ৪৬৩২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৩২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلاً مِنَ الأَسْدِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ - قَالَ عَمْرٌو وَابْنُ أَبِي عُمَرَ عَلَى الصَّدَقَةِ - فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ هَذَا لَكُمْ وَهَذَا لِي أُهْدِيَ لِي قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ «مَا بَالُ عَامِلٍ أَبْعَثُهُ فَيَقُولُ هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي . أَفَلاَ قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ أَوْ فِي بَيْتِ أُمِّهِ حَتَّى يَنْظُرَ أَيُهْدَى إِلَيْهِ أَمْ لاَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَنَالُ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ بَعِيرٌ لَهُ رُغَاءٌ أَوْ بَقَرَةٌ لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةٌ تَيْعِرُ» . ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْنَا عُفْرَتَىْ إِبْطَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . مَرَّتَيْنِ .
আবূ হুমায়দ আস্ সা'ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করলেন- যাকে ইবনুল লুত্বিয়্যাহ্ নামে অভিহিত করা হতো। রাবী ‘আম্র ও ইবনু আবূ ‘উমর বলেন, যাকাত আদায়ের জন্য। যখন সে ফিরে এলো, তখন সে বললো, এটি আপনাদের (অর্থাৎ- বায়তুল মালের) এবং ওটি আমাকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে।রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপরে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করার পর বললেন, সে কর্মচারীর কী হলো, যাকে আমি (আদায়কারীরূপে) প্রেরণ করলাম, আর সে (যেমন দিয়ে আসে তেমন) বলে! ওটা আপনাদের আর এটি আমাকে উপঢৌকন দেয়া হয়েছে? সে তার পিতার বা মাতার ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন যে তাকে উপঢৌকন দেয়া হয় কি-না? মুহাম্মাদের প্রাণ যে পবিত্র সত্তার হাতে তাঁর কসম! যে কেউ এরূপ সম্পদের কিছুমাত্র কুক্ষিগত করবে, কেয়ামতের দিন তাই সে তার ঘাড়ে বহন করে নিয়ে আসবে- তার ঘাড়ের উপর চিৎকাররত উট হবে অথবা হাম্বা-হাম্বারত গাভী হবে অথবা চিৎকাররত বকরী হবে।তারপর তিনি দু’হাত উপরের দিকে উঠিয়ে ধরলেন, এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আমি কি তোমার নির্দেশ পৌঁছিয়ে দিয়েছি?” এ কথা তিনি দু’বার বললেন।
ই.ফা. ৪৫৮৬, ই.সে. ৪৫৮৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনুল লুতবিয়া নামের একজন কর্মচারীর ঘটনা এসেছে। তাঁকে যাকাত আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফিরে এসে তিনি বলেন, এই অংশ আপনাদের, আর এই অংশ আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুতবায় দাঁড়িয়ে বলেন, সে তার পিতা বা মাতার ঘরে বসে দেখত না কেন, তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না। এই কথায় মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার: দায়িত্বের কারণে পাওয়া উপহার ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে নেওয়া নিরাপদ নয়। কারণ সেটি তার পদ বা দায়িত্বের কারণে আসতে পারে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সতর্ক করেন, কেউ এমন সম্পদের কিছু নিলে কেয়ামতের দিন সেটিই তার ঘাড়ে বহন করে আসবে। এই হাদিস দায়িত্বের আমানত, স্বচ্ছ হিসাব এবং প্রাপ্য ছাড়া কিছু না নেওয়ার শক্ত শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বের কারণে পাওয়া উপহার ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া সন্দেহজনক হতে পারে।
- কর্মচারীর উচিত সব আদায়কৃত সম্পদ পরিষ্কারভাবে জমা দেওয়া।
- প্রাপ্য ছাড়া সম্পদ নেওয়া কেয়ামতের দিনে দায় হয়ে উঠবে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতকে সতর্ক করে দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন।
