২/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৭৫ - কষ্টের সময় পূর্ণাঙ্গ ওজুর ফজিলত
কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে ওযূ করার ফযীলত
কষ্টের সময় পূর্ণাঙ্গ ওজু ও সালাতের অপেক্ষার ফজিলত
সহীহ মুসলিম : ৪৭৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৭৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، - قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন কাজ জানাবো না, যা করলে আল্লাহ (বান্দার) পাপরাশি দূর করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন। তিনি বললেনঃ অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে ওজু করা, মসজিদে আসার জন্যে বেশি পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর আর এক সালাতের জন্যে প্রতীক্ষা করা; আর এ কাজগুলোই হল সীমান্ত প্রহরা। [৮০]
[৮০] রিবাত (সীমান্ত প্রহরী) অর্থঃ কোন জিনিস থেকে বন্ধ থাকা, অর্থাৎ ইতা‘আতের উপর নিজের আত্মাকে বন্ধ রাখা, তাতে যত কষ্টই হোক।ই.ফা. ৪৭৮, ই.সে. ৪৯৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনটি আমলের কথা বলেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ পাপরাশি দূর করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। প্রথমটি হলো অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করা। দ্বিতীয়টি হলো মসজিদে আসার জন্য বেশি পদচারণা করা। তৃতীয়টি হলো এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। শেষে তিনি বলেন, এ কাজগুলোই সীমান্ত প্রহরা। হাদিসটি ওজুর ফজিলত, মসজিদে যাওয়ার গুরুত্ব এবং সালাতের প্রতি আগ্রহ—এই তিনটি শিক্ষা একসাথে দেয়। এখানে ‘কষ্ট’ থাকলেও আমলকে সুন্দরভাবে করা এবং সালাতের সাথে হৃদয়কে যুক্ত রাখার কথা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কষ্টের সময়ও পূর্ণাঙ্গ ওজু করা পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।
- মসজিদে যাওয়ার জন্য পদচারণা একটি মূল্যবান আমল।
- এক সালাতের পর পরের সালাতের অপেক্ষা করা প্রশংসিত কাজ।
- সালাতকেন্দ্রিক জীবন মুমিনকে আমলের ধারাবাহিকতায় রাখে।
