৩৫/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯২৭ - হাদিস বর্ণনার সতর্কতা
গুই সাপের গোশ্ত হালাল
হাদিস বর্ণনায় সানাদের গুরুত্ব
সহীহ মুসলিম : ৪৯২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৯২৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ، قَالَ قَالَ لِي الشَّعْبِيُّ أَرَأَيْتَ حَدِيثَ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَقَاعَدْتُ ابْنَ عُمَرَ قَرِيبًا مِنْ سَنَتَيْنِ أَوْ سَنَةٍ وَنِصْفٍ فَلَمْ أَسْمَعْهُ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ غَيْرَ هَذَا قَالَ كَانَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فِيهِمْ سَعْدٌ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُعَاذٍ.
তাওবাহ্ ‘আম্বরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
শা’বী (রহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আপনি কি নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হাসান (রহঃ)-এর হাদীসটি শুনেছেন? আমি তো প্রায় দু’বছর কিংবা দেড় বছর ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, কিন্তু তাঁকে এ হাদীসটি ছাড়া নবী (ﷺ) থেকে অন্য কিছু বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কতিপয় সাহাবীর মধ্যে সা’দ (রাঃ)-ও ছিলেন, অতঃপর (বাকী অংশ) মু’আয (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
ই.ফা. ৪৮৭৬, ই.সে. ৪৮৭৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূল আলোচ্য বিষয় হলো হাদিস বর্ণনার সতর্কতা ও সানাদের গুরুত্ব। শা’বী (রহঃ) বলেন, তিনি ইবন উমর (রাঃ)-এর সাথে প্রায় দুই বছর বা দেড় বছর ছিলেন, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) থেকে তাঁকে এই হাদিস ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করতে শোনেননি। এতে বোঝা যায়, সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে কথা বলার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক ছিলেন। হাদিস বর্ণনা তাঁদের কাছে সাধারণ কথা ছিল না; বরং এটি ছিল আমানত। এখানে আরও বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কতিপয় সাহাবীর মধ্যে সা’দ (রাঃ)-ও ছিলেন এবং বর্ণনাটি মু’আয (রাঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ। তাই এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইসলামি জ্ঞান গ্রহণে সঠিক সূত্র, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং সাবধানতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
- সাহাবীরা হাদিস বর্ণনায় আমানতদারির দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
- একই অর্থের বর্ণনা বিভিন্ন সাহাবীর সূত্রে আসতে পারে।
- ইসলামি জ্ঞান গ্রহণে সানাদ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের গুরুত্ব আছে।
