৩৭/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০২১ - নেশা ও সম্পদ নষ্টের ঘটনা
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা
নেশা ও সম্পদ নষ্টের ঘটনা
সহীহ মুসলিম : ৫০২১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০২১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَأَصَبْتُ شَارِفًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي مَغْنَمٍ يَوْمَ بَدْرٍ وَأَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَارِفًا أُخْرَى فَأَنَخْتُهُمَا يَوْمًا عِنْدَ بَابِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَحْمِلَ عَلَيْهِمَا إِذْخِرًا لأَبِيعَهُ وَمَعِيَ صَائِغٌ مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ عَلَى وَلِيمَةِ فَاطِمَةَ وَحَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَشْرَبُ فِي ذَلِكَ الْبَيْتِ مَعَهُ قَيْنَةٌ تُغَنِّيهِ فَقَالَتْ أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَثَارَ إِلَيْهِمَا حَمْزَةُ بِالسَّيْفِ فَجَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا ثُمَّ أَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا .قُلْتُ لاِبْنِ شِهَابٍ وَمِنَ السَّنَامِ قَالَ قَدْ جَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا فَذَهَبَ بِهَا . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ قَالَ عَلِيٌّ فَنَظَرْتُ إِلَى مَنْظَرٍ أَفْظَعَنِي فَأَتَيْتُ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ فَخَرَجَ وَمَعَهُ زَيْدٌ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَدَخَلَ عَلَى حَمْزَةَ فَتَغَيَّظَ عَلَيْهِ فَرَفَعَ حَمْزَةُ بَصَرَهُ فَقَالَ هَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لآبَائِي فَرَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُقَهْقِرُ حَتَّى خَرَجَ عَنْهُمْ .
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বদর দিবসে আমি গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আর একটি বয়স্ক উট দিয়েছিলেন। একদিন আমি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দরজার সামনে সে দু’টি বেঁধে রাখলাম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে দু’টির পিঠে করে কিছু ইযখির ঘাস বয়ে আনবো, আর তা বিক্রয় করে ফাতিমাহ্ (রাঃ)-এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিব। আমার সঙ্গে ছিল বানূ কাইনুকা‘ গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার। হামযাহ্ ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) সে বাড়িতেই মদ পান করছিল। তার সাথে ছিল একজন গায়িকা।সে (তার গানের মধ্যে) বললঃ أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ অর্থাৎ- হে হামযাহ্! হৃষ্টপুষ্ট উট দু’টির কাছে যাও এবং মেহমানদের জন্য তা যাবাহ করো।তারপর হামযাহ্ ও দু’টির নিকট ছুটে গেল। পরে দু’টিরই কুজ [৩]কেটে ফেললো এবং তাদের পেট ফেড়ে দিল। তারপর সে এ দু’টির কলিজা বের করে নিল। আমি ইবনু শিহাবকে বললাম, তিনি কুজ দু’টি কি করলেন? তিনি বললেন, কুজ দু’টি কেটে সাথে নিয়ে চললেন। ইবনু শিহাব বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তাঁর নিকট ছিল যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)।এরপর আমি তাঁকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি যায়দ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। আমিও তাঁর সাথে চললাম। হামযাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তিনি তাকে কিছু কঠিন কথা বললেন। হামযাহ্ (রাঃ) চোখ তুলে বলল, তোমরা তো আমার বাবার ক্রীতদাস ছাড়া কিছু নও। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিছন দিকে ফিরে আসলেন। এমনকি তিনি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে চলে এলেন।
[৩]জন্তুর বুক ও ঘাড়ের মাঝামাঝি উপরের অংশে বৃহৎ যে গোশ্তপিণ্ড তাকে কুজ বলা হয়।ই. ফা. ৬ষ্ঠ খণ্ড-৪৯৬৪, ই. সে. ৪৯৭১ বিঃ দ্রঃ ৪৯৬৪ নম্বরটি ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ ভুলক্রমে দুইবার দিয়েছে।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ)-এর দুইটি উটের ঘটনা এসেছে। বদরের গনিমত থেকে তিনি একটি উট পেয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে আরেকটি উট দিয়েছিলেন। তিনি ইযখির ঘাস আনার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে তা বিক্রি করে ফাতিমা (রাঃ)-এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু হামজা (রাঃ) এক ঘরে মদ পান করছিলেন এবং গায়িকার কথায় উট দুটির দিকে গিয়ে তাদের কুঁজ কেটে ফেললেন, পেট ফাড়লেন এবং কলিজা বের করলেন। আলী (রাঃ) ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) গিয়ে তাঁকে কঠিন কথা বলেন, কিন্তু হামজা (রাঃ) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অসম্মানজনক কথা বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেখান থেকে ফিরে আসেন। এই হাদিস নেশার ক্ষতি, সম্পদ নষ্টের পরিণতি এবং উত্তেজিত অবস্থায় পরিস্থিতি সামলানোর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশাগ্রস্ত অবস্থা মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- অন্যের সম্পদ নষ্ট করা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়।
- সমস্যা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ঘটনা জানানো হয়েছে, যা ন্যায় চাওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে পরিস্থিতি বুঝে আচরণ করা দরকার।
