৩৭/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৫৩ - আবু আইয়ুবের সম্মান ও রসুনের আদব
রসুন খাওয়া বৈধ এবং যে লোক বড়দের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে এটা তার জন্য খাওয়া পরিহার করা কর্তব্য, অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর বিধানও তাই
আবু আইয়ুব রাঃ-এর মেহমানদারি ও নবীপ্রেম
সহীহ মুসলিম : ৫২৫৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫২৫৩
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ صَخْرٍ، - وَاللَّفْظُ مِنْهُمَا قَرِيبٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، - فِي رِوَايَةِ حَجَّاجِ بْنِ يَزِيدَ أَبُو زَيْدٍ الأَحْوَلُ - حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَفْلَحَ، مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَزَلَ عَلَيْهِ فَنَزَلَ النَّبِيُّ ﷺ فِي السُّفْلِ وَأَبُو أَيُّوبَ فِي الْعُلْوِ - قَالَ - فَانْتَبَهَ أَبُو أَيُّوبَ لَيْلَةً فَقَالَ نَمْشِي فَوْقَ رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَتَنَحَّوْا فَبَاتُوا فِي جَانِبٍ ثُمَّ قَالَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " السُّفْلُ أَرْفَقُ " . فَقَالَ لاَ أَعْلُو سَقِيفَةً أَنْتَ تَحْتَهَا . فَتَحَوَّلَ النَّبِيُّ ﷺ فِي الْعُلْوِ وَأَبُو أَيُّوبَ فِي السُّفْلِ فَكَانَ يَصْنَعُ لِلنَّبِيِّ ﷺ طَعَامًا فَإِذَا جِيءَ بِهِ إِلَيْهِ سَأَلَ عَنْ مَوْضِعِ أَصَابِعِهِ فَيَتَتَبَّعُ مَوْضِعَ أَصَابِعِهِ فَصَنَعَ لَهُ طَعَامًا فِيهِ ثُومٌ فَلَمَّا رُدَّ إِلَيْهِ سَأَلَ عَنْ مَوْضِعِ أَصَابِعِ النَّبِيِّ ﷺ فَقِيلَ لَهُ لَمْ يَأْكُلْ.فَفَزِعَ وَصَعِدَ إِلَيْهِ فَقَالَ أَحَرَامٌ هُوَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " لاَ وَلَكِنِّي أَكْرَهُهُ " . قَالَ فَإِنِّي أَكْرَهُ مَا تَكْرَهُ أَوْ مَا كَرِهْتَ. قَالَ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُؤْتَى.
আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(হিজরাতের সময়) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর গৃহে মেহমান হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবস্থান করতেন নীচ তলায় এবং আবূ আইয়ূব (রাঃ) অবস্থান করতেন উপর তলায়। একদা রাত্রে আবূ আইয়ূব (রাঃ) জাগ্রত হয়ে বললেন, আমরা তো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথার উপর চলাফেরা করি। তখন তিনি সে স্থান হতে দূরে গিয়ে এক কোণে রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর (সকালে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তিনি ব্যাপারটি জানালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নীচ তলায়েই অনেক সুবিধা। তখন তিনি বললেন, আপনি নীচে থাকবেন এমন ছাদে আমি উঠবো না।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর তলায় এবং আবূ আইয়ূব (রাঃ) নীচ তলায় জায়গা পরিবর্তন করলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতেন যখন (অবশিষ্ট) খাদ্য ফেরত আনা হতো, তখন তিনি জানতে চাইতেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন্ জায়গায় তাঁর আঙ্গুল স্পর্শ করেছেন। অতঃপর তাঁর আঙ্গুলের স্থান অনুসরণ করে সেখান থেকে খেতেন।একবার তিনি তাঁর জন্য খানা প্রস্তুত করলেন, যার মধ্যে রসুন ছিল। তাঁর নিকট ফেরত নিয়ে আসলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আঙ্গুল স্পর্শের স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তাঁকে বলা হলো, তিনি এগুলো খাননি। তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং তাঁর কাছে (উপরে) গেলেন এবং বললেন, এটা কি হারাম? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না, তবে আমি এটা অপছন্দ করি। তিনি বললেন, তাহলে আপনি যা পছন্দ করেন না, আমিও তা পছন্দ করি না। তিনি বলেন, নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সে সময় ওহী আসত।
ই.ফা. ৫১৮৫, ই.সে. ৫১৯৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ বর্ণনায় আবু আইয়ুব আনসারী রাঃ-এর নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি গভীর সম্মান দেখা যায়। হিজরতের সময় নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর ঘরে মেহমান হলেন। শুরুতে নবী صلى الله عليه وسلم নিচতলায় থাকতেন আর আবু আইয়ুব রাঃ উপরতলায়। রাতে তিনি ভাবলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মাথার উপর দিয়ে চলাফেরা করা তাঁর জন্য ঠিক হচ্ছে না। তাই তিনি এক পাশে রাত কাটালেন এবং পরে নবী صلى الله عليه وسلم-কে জানালেন। এরপর তাঁরা জায়গা পরিবর্তন করলেন। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য খাবার তৈরি করতেন এবং অবশিষ্ট খাবারে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আঙুলের জায়গা খুঁজে সেখান থেকে খেতেন। একবার রসুনযুক্ত খাবার নবী صلى الله عليه وسلم খাননি। তিনি ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটি কি হারাম? নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, না, তবে তিনি তা অপছন্দ করেন। এই হাদিসে সম্মান, মেহমানদারি, খাদ্য আদব এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি ভালোবাসা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সাহাবিদের সম্মান খুব গভীর ছিল।
- মেহমানের আরাম ও মর্যাদার দিকে খেয়াল রাখা সুন্দর আদব।
- কোনো খাবার না খাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা ভুল ধারণা দূর করে।
- রসুন এখানে হারাম নয়, বরং গন্ধের কারণে অপছন্দ বলা হয়েছে।
