৩৮/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৮৭ - সোনা-রূপার পাত্র ও রেশমি পোশাকের সতর্কতা
নারী ও পুরুষের জন্য স্বর্ণ- রৌপ্যের বাসন এবং পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ও রেশম জাতীয় বস্ত্র ব্যবহার্য হারাম এবং মহিলাদের জন্য এগুলো ব্যবহার করা মুবাহ্; সোনা রূপা ও রেশমের কাপড় অনধিক চার আঙ্গুল পর্যন্ত কারুকার্য খচিত বস্তু পুরুষের জন্য মুবাহ্
সোনা-রূপার পাত্র ও রেশমি পোশাকের সতর্ক শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫২৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫২৮৭
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَهْلِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، سَمِعْتُهُ يَذْكُرُهُ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُكَيْمٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ حُذَيْفَةَ بِالْمَدَائِنِ فَاسْتَسْقَى حُذَيْفَةُ فَجَاءَهُ دِهْقَانٌ بِشَرَابٍ فِي إِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فَرَمَاهُ بِهِ وَقَالَ إِنِّي أُخْبِرُكُمْ أَنِّي قَدْ أَمَرْتُهُ أَنْ لاَ يَسْقِيَنِي فِيهِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ تَشْرَبُوا فِي إِنَاءِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلاَ تَلْبَسُوا الدِّيبَاجَ وَالْحَرِيرَ فَإِنَّهُ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَهُوَ لَكُمْ فِي الآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
'আবদুল্লাহ ইবনু 'উকায়ম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা হুযাইফাহ (রাঃ) এর সাথে মাদায়িনে ছিলাম। হুযাইফাহ (রাঃ) পানি পান করতে ইচ্ছা করলে গ্রাম্য এক পণ্ডিত তাঁর কাছে রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসল। তিনি তা ফেলে দিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে (এটি ফেলে দেওয়ার কারণ) অবগত করছি। তাকে আমি বারণ করেছিলাম, সে যেন এর মধ্যে আমাকে পানি পান না করায়। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং মোটা রেশমী কাপড় ও মিহি রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ ইহকালে এগুলো হল কাফিরদের জন্য। আর তোমাদের জন্য এগুলো হবে পরকালে।
ই.ফা. ৫২২০, ই.সে. ৫২৩৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইফা (রাঃ)-এর একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। তিনি পানি চাইলে একজন লোক রূপার বাসনে পানি আনল। হুযাইফা (রাঃ) তা গ্রহণ করলেন না; বরং ফেলে দিলেন এবং কারণও জানালেন। তিনি আগে থেকেই সেই লোককে রূপার পাত্রে পানি না দিতে বলেছিলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা শুনিয়ে দিলেন: সোনা ও রূপার বাসনে পান করা যাবে না, আর মোটা ও মিহি রেশমি কাপড় ব্যবহার করা যাবে না। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, পানাহার ও পোশাকের আদব শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এতে দ্বীনের সীমাও আছে। এখানে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের বদলে আখিরাতকে সামনে রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সোনা ও রূপার বাসনে পান করা থেকে বাঁচতে বলা হয়েছে।
- মোটা ও মিহি রেশমি কাপড় ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
- সাহাবারা নিষেধ শুনলে তা বাস্তবে মানতেন।
- দুনিয়ার চাকচিক্যের চেয়ে আখিরাতের অংশকে বেশি গুরুত্ব দিতে শেখানো হয়েছে।
