৩৮/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৯৩ - সোনা-রূপার থালা ও রেশমি কাপড়ের নিষেধ
নারী ও পুরুষের জন্য স্বর্ণ- রৌপ্যের বাসন এবং পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ও রেশম জাতীয় বস্ত্র ব্যবহার্য হারাম এবং মহিলাদের জন্য এগুলো ব্যবহার করা মুবাহ্; সোনা রূপা ও রেশমের কাপড় অনধিক চার আঙ্গুল পর্যন্ত কারুকার্য খচিত বস্তু পুরুষের জন্য মুবাহ্
সোনা-রূপার থালা ও রেশমি কাপড়ের নিষেধ
সহীহ মুসলিম : ৫২৯৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫২৯৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَيْفٌ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ اسْتَسْقَى حُذَيْفَةُ فَسَقَاهُ مَجُوسِيٌّ فِي إِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «لاَ تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا" .
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুযাইফাহ্ (রাঃ) পানি পান করার ইচ্ছা করলে এক অগ্নি-পূজারী একটি রূপার বাসনে তাঁকে পানি পান করতে দিল। সে সময় তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা পাতলা রেশমী বস্ত্র ও মোটা রেশমী বস্ত্র ব্যবহার করবে না, সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং সোনা রূপার থালায় খাবেও না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো তাদের (কাফিরদের) জন্য।
ই.ফা. ৫২২৬, ই.সে. ৫২৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইফা (রাঃ) পানি চাইলে এক অগ্নিপূজারী তাঁকে রূপার বাসনে পানি দিল। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা স্মরণ করালেন। এই বর্ণনায় নিষেধটি আরও বিস্তারিতভাবে এসেছে: পাতলা ও মোটা রেশমি বস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, সোনা ও রূপার বাসনে পান করা যাবে না, আর সোনা-রূপার থালায় খাবারও খাওয়া যাবে না। শেষে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে এগুলো তাদের জন্য। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বাহারি পাত্র ও পোশাককে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো যাবে না। একজন মুমিনের জন্য বেশি জরুরি হলো, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধ শুনে নিজের অভ্যাসকে ঠিক করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সোনা-রূপার বাসনে পান করা নিষেধ হিসেবে এসেছে।
- সোনা-রূপার থালায় খাওয়ার কথাও এই বর্ণনায় নিষেধের মধ্যে এসেছে।
- রেশমি পোশাকের দুটি ধরন—পাতলা ও মোটা—উল্লেখ করা হয়েছে।
- চাকচিক্য নয়, নববী আদবই মুমিনের আচরণের ভিত্তি।
