৩৯/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫০৬ - উম্মু সুলাইমের ধৈর্য ও তাহনীক
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নাবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব
উম্মু সুলাইমের ধৈর্য, দোয়া ও নবজাতকের তাহনীক
সহীহ মুসলিম : ৫৫০৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৫০৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ، سِيرِينَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ يَشْتَكِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ فَقُبِضَ الصَّبِيُّ فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ مَا فَعَلَ ابْنِي قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هُوَ أَسْكَنُ مِمَّا كَانَ . فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ فَتَعَشَّى ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا فَلَمَّا فَرَغَ قَالَتْ وَارُوا الصَّبِيَّ . فَلَمَّا أَصْبَحَ أَبُو طَلْحَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " أَعْرَسْتُمُ اللَّيْلَةَ " . قَالَ نَعَمْ قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمَا " . فَوَلَدَتْ غُلاَمًا فَقَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ احْمِلْهُ حَتَّى تَأْتِيَ بِهِ النَّبِيَّ ﷺ. فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ ﷺ وَبَعَثَتْ مَعَهُ بِتَمَرَاتٍ فَأَخَذَهُ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ " أَمَعَهُ شَىْءٌ " . قَالُوا نَعَمْ تَمَرَاتٌ. فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ ﷺ فَمَضَغَهَا ثُمَّ أَخَذَهَا مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ ثُمَّ حَنَّكَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ তালহাহ্ (রাঃ) এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। (একদিন) আবূ তালহাহ্ (রাঃ) (তাঁর কর্মে) বের হলো এদিকে তাঁর বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবূ তালহাহ্ (রাঃ) ফিরে আসলেন, তিনি (স্ত্রীকে) প্রশ্ন করলেন, আমার সন্তান কি করছে? (স্ত্রী) উন্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, সে পূর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাঁকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উন্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো।যখন সকাল হলো আবূ তালহাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে তাঁকে (সব) ঘটনা অবহিত করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (দোয়া করে) বললেন, হে আল্লাহ! তাঁদের দু’জনের জন্যে বারাকাত দিন। তারপর তাঁর স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করলেন। সে সময় আবূ তালহাহ্ (রাঃ) আমাকে বললেন, তাকে (কোলে) তুলে নবী (ﷺ) এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রাসূল (ﷺ) এর নিকট আসলেন। উন্মু সুলায়ম (রাঃ) তাঁর সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (শিশুটিকে) কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তাঁরা বললো, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর।তখন নবী (ﷺ) সেগুলো বের করলেন ও চিবালেন। তারপর তা তাঁর মুখ হতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তাঁর জন্যে দোয়া করলেন এবং তার নাম রাখলেন ‘আব্দুল্লাহ।
ই.ফা. ৫৪২৮, ই. সে. ৫৪৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু তালহা (রাঃ)-এর অসুস্থ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এসেছে। তিনি বাইরে থাকাকালে সন্তান মারা যায়। ফিরে এসে জানতে চাইলে উম্মু সুলাইম (রাঃ) শান্তভাবে বলেন, সে আগের চেয়ে বেশি শান্ত। পরে সময়মতো তিনি শিশুকে দাফনের কথা জানান। সকালে আবু তালহা (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ঘটনা বলেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাদের জন্য বরকতের দোয়া করেন। পরে তাঁদের একটি সন্তান জন্ম নেয়। শিশুটিকে খেজুরসহ নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হলে তিনি খেজুর চিবিয়ে শিশুর মুখে দেন, তাহনীক করেন, দোয়া করেন এবং নাম রাখেন ‘আবদুল্লাহ’। এই হাদিসে ধৈর্য, দোয়া, নবজাতকের তাহনীক এবং ভালো নাম রাখার শিক্ষা একসঙ্গে আছে। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে বর্ণিত ঘটনাগুলোই মূল রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উম্মু সুলাইম (রাঃ) কঠিন অবস্থায় সংযম দেখিয়েছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم আবু তালহা ও তাঁর স্ত্রীর জন্য বরকতের দোয়া করেছেন।
- নবজাতকের জন্য তাহনীক ও দোয়ার ঘটনা এসেছে।
- শিশুটির নাম নবী صلى الله عليه وسلم আবদুল্লাহ রাখেন।
